বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে যুবলীগ নেতাকে টাকা দিয়ে বিপাকে ২৬০ পরিবার

jagonews24

সেলিম মাঝি নামে যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে লক্ষ্মীপুরের ২ 27০ পরিবারের কাছ থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে। তিনি বিদ্যুৎ সন্ধানীদের কাছ থেকে কমপক্ষে পাঁচ লক্ষ টাকা নিয়ে পকেট ভারী করেছেন। দু’বছর ধরে সংযোগ না থাকায় তাদের টাকা ফেরত পেতে চাইলে প্রত্যাশীদের হুমকি দেওয়া হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের অন্ধরম্যানিক গ্রামে ক্ষতিগ্রস্থদের পরিবার সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযুক্ত সেলিম মাঝি সদর উপজেলার তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি।

স্থানীয়দের মতে, দু’বছর আগে সেলিম আন্ধারমানিক গ্রামের ২0০ পরিবার থেকে বিদ্যুত সংযোগ দেওয়ার জন্য কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা আদায় করেছিলেন। প্রতিটি পরিবার থেকে এক বা তিন হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রতিটি মিটারের জন্য সরকার নির্ধারিত ব্যয় 450 টাকা। বিদ্যুৎ সংযোগ পাওয়ার আশায় গ্রাহকরা নিজ উদ্যোগে ঘরে ওয়্যারিং রাখেন। ইতিমধ্যে গ্রামের খুঁটির সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। সেলিম গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা নিলেও পরিবার অফিসে আবেদন না করায় বিদ্যুৎ সংযোগ পাচ্ছে না তারা।

সবুজ ও সুলতান মাহমুদ ফয়েল সহ মোজাম্মেল হোসেন রনি, মোঃ স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যুবলীগ নেতা সেলিম বিদ্যুৎ পেতে গ্রামবাসীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছিল। কিন্তু কেউ বিদ্যুতের সংযোগ পেল না। সেলিম তাদের প্রতিবাদ করার জন্য তাদের মারধর ও মামলা করার হুমকি দিচ্ছে।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা সেলিম মাঝি বলেছিলেন, “যারা তিন হাজার টাকা দিয়েছে তাদের আমি সংযুক্ত করেছি।” অন্যরা পুরো পরিমাণ অর্থ পরিশোধ না করায় সংযুক্ত হতে পারেনি। আমি গ্রাহকদের টাকা খাইনি, অফিসে জমা দিয়েছি।

তেওয়ারীগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওমর হুসেন ভুলু বলেছিলেন, ছিনতাইকারীর রাজনৈতিক পদবি বড় নয়, এটাকে অপরাধ বলে গণ্য করা হয়। আমি ক্ষতিগ্রস্থদের সেলিমের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।

লক্ষ্মীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার আবু তাহের বলেন, গ্রাহকরা সরাসরি অফিসে আবেদন করলে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হত। আমরা সেলিমের প্রতারণার বিষয়ে অবগত নই। এ বিষয়ে অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাজল কায়েস / আরএআর / এমকেএইচ