মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর হামলা, এমপি মোস্তাফিজের এপিএসসহ আটক ৪

এপিএস

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের উপর হামলার ঘটনায় বাঁশখালী (চট্টগ্রাম -১-) আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএম (ব্যক্তিগত সহকারী) একেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহসিন জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধা সোনতান সংসদ কমান্ড আয়োজিত মানববন্ধনে হামলার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের একজনের নাম রাসেল। হামলায় আহতদের দ্বারা একটি মামলা তৈরি করা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারের পরে থানায় রাসেল

এর আগে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২ টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে মুক্তিযোদ্ধাদের বর্ধন কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলায় মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা এই হামলার জন্য বাঁশখালী সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের অনুগামীদের দায়ী করেছেন।

সাংবাদিকদের ভিডিওতে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান শুরুর পরে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস একেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল এবং বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হকের নেতৃত্বে একটি মিছিল কর্মসূচির দিকে এগিয়ে চলেছে। পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় মিছিলের লোকজন লাঠিপেটা করে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান আক্রমণ করে। প্রোগ্রামটি বৃথা যায়।

এর আগে সকালে তারা চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের ব্যানারে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে অবস্থান শুরু করেন। মৌলভী সৈয়দের বড় ভাই, মুক্তিযোদ্ধাদের প্রথম বিক্ষোভকারী এবং বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড। তাঁর মৃত্যুর পরে আলী আশরাফকে সম্মান না করা, মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানের কড়া কথায় এবং বাঁশখালীতে মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধনে হামলার প্রতিবাদ করার প্রতিবাদ করার জন্য এই কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল। সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধাসহ বিভিন্ন পেশার প্রতিনিধিরা এই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন। কর্মসূচি শুরুর পরপরই এই আক্রমণ করা হয়েছিল।

ঘটনার সময় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ অন্যান্য সাংবাদিকদের সাথে প্রেসক্লাবের সামনে ছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, “দুপুর বারোটার দিকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানের এপিএস এবং বাঁশখালী পৌরসভার মেয়র সেলিম-উল-এর নেতৃত্বে একদল যুবক মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিকদের উপর হামলা করে।” মিছিলটি এসে লাঠিচার্জ করে বিক্ষোভকে ব্যর্থ করে দেয়। এ ঘটনায় সাংবাদিকসহ কমপক্ষে ২৫ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ও জনতা ধাওয়া করে দুজনকে আটক করে।

অ্যাপস

এমপি এপিএস মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল এবং বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হক ছবিতে।

হামলায় আহতদের মধ্যে কয়েকজন হলেন: মহানগর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ, বাঁশখালী কমান্ডার আবুল হাশেম, সাতকানিয়া কমান্ডার আবু তাহের, মুক্তিযোদ্ধা আজিমুল ইসলাম বেদু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবদুর রাজ্জাক, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী ফরিদ, মৌলভী সৈয়দ। উবেদ। বাবর, ইমরানুল ইসলাম তুহিন, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আবু সাদাত। সায়েম, মোবাবাশের হোসেন সোহান, কামরুল হুদা পাভেল সহ আরও বেশ কয়েকজন ফটো সাংবাদিক।

বাঁশখালী ৪ বাহারছড়ায় হামলার নেতৃত্ব দেন এমপি এপিএস কেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাসেল ও বাঁশখালী পৌর মেয়র সেলিমুল হক। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মনজুরুল ইসলাম, খানখানবাদ ইউনিয়ন ডংড়া ৩ এর ফয়জুল মুবিন, ডংড়ার শাহে জিসান ও চাঁপাছড়ি ৪ বাহারছড়ার নুর উদ্দিন মোহাম্মদ রকি সহ ১৫ থেকে ২০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি অংশ নিয়েছেন।

পরে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদে জড়ো হন। মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডার মোজাফফর আহমেদের নেতৃত্বে জামালখানে তত্ক্ষণাত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যুবলীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ মাহমুদুল হক, ছাত্রলীগের প্রাক্তন নেতা নুরুল আজিম রনি সহ মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সোনতান কমান্ডের নেতাকর্মীরা সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা এ জন্য বাঁশখালী সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দোষ দিয়েছেন।

সমাবেশে মহানগর কমান্ডার মোজাফফর আহমেদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের সকল পদ ও এমপি পদ থেকে এমপি মোস্তাফিজুর রহমানকে অব্যাহতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

আবু আজাদ / এসএইচএস / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]