যুক্তরাষ্ট্রে পরিবর্তনের সুর, পুলিশ পুনর্গঠন চায় ৯৫ শতাংশ মানুষ

jagonews24

সাম্প্রতিক সময়ে বড় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে মার্কিনিদের মন-মানসিকতায়। পাঁচ বছর আগেও পুলিশের বর্ণবাদী আচরণ নিয়ে সেখানকার মানুষজন খুব একটা মাথা ঘামাত না বা মুখ খোলার সাহস পেত না। কিন্তু গত কয়েক সপ্তাহে সেটিতে এসেছে বিপুল পরিবর্তন। এখন দেশটির ৯৫ শতাংশ মানুষই মনে করছেন, বর্ণবাদ বিষয়ে বর্তমান পুলিশি ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা দরকার।

গত মে মাসের শেষ সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে পুলিশি নির্যাতনে প্রাণ হারান জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গ। আট মিনিটেরও বেশি তার ঘাড়ের ওপর পা রেখে মাটিতে চেপে রাখা হয় নিরস্ত্র ফ্লয়েডকে। এসময় ‘শ্বাস নিতে পারছি না’ বলে বারবার আকুতি করলেও তাতে মন গলেনি ওই শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাদের। পরে মারাই যান ফ্লয়েড। এ ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই বিক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্রে। এতে সমর্থন জানান বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।

টানা কয়েক সপ্তাহ বিক্ষোভের পর যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশি ব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত জানতে জরিপ চালায় বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এবং এনওআরসি সেন্টার ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স রিসার্চ। তাদের জরিপে দেখা যায়, এখনকার মানুষ পুলিশের বর্ণবাদী আচরণের বিষয়ে অনেক বেশি সচেতন। যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ মানুষই জনসাধারণের ওপর পুলিশের এমন বৈষম্যমূলক আচরণকে বড় সমস্যা বলে মনে করছেন এবং এমন ঘটনায় দোষীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ২৯ শতাংশ মার্কিনি মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রে অপরাধী বিচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন দরকার; ৪০ শতাংশ বড় পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন; ২৫ শতাংশ বলেছেন, ছোটখাটো পরিবর্তন হলেই চলবে। আর মাত্র পাঁচ শতাংশ মানুষ বর্তমান ব্যবস্থাতেই সন্তুষ্ট বলে মত দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্যের বিষয়ে কেভিন রিচার্ডসন নামে নর্থ ক্যারোলিনার এক বাসিন্দা বলেন, ‘একজন কৃষ্ণাঙ্গ হিসেবে মনে করি, এটি ঘটছে। আমাদের জানা উচিত, আমাদের দেখা উচিত- কী হচ্ছে। সত্যি বলতে, শ্বেতাঙ্গরাও এখন বিষয়টি (বর্ণবৈষম্য) দেখতে পাচ্ছে এবং বলছে , ‘এটি ঠিক নয়।’’

সূত্র: আল জাজিরা
কেএএ/

.