পান্তাভাতে আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্কসহ বিভিন্ন প্রকার খনিজপদার্থ বেড়ে যায়

পান্তা ভাত শর্করা সমৃদ্ধ জলীয় খাবার, তাই শরীর ঠান্ডা রাখে। দেশী লালচালের পান্তাভাতে থাকে সাত ধরনের বি ভিটামিন ( B1, B2, B3, B5, B6, B9, B12)।

রাতভর ভিজিয়ে রাখার জন্য এর পুষ্টি উপাদান অনেক বেড়ে যায়।

এশিয়ান জার্নাল অব কেমেস্ট্রিতে প্রকাশিত,
এক গবেষণায় দেখা যায় যে গরম ভাতের তুলনায় পান্তাভাতে আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং জিঙ্কসহ বিভিন্ন প্রকার খনিজপদার্থ বেড়ে যায়। শুধুমাত্র সোডিয়ামের পরিমাণ হ্রাস পায়।

পান্তাভাতে আয়রন, ফসফরাস
পান্তাভাতে আয়রন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম

১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখার তুলনামূলক পুষ্টিমান-

আয়রনের পরিমাণ ১০০ গ্রাম গরম ভাতে ৩.৪ মিলিগ্রাম থেকে পান্তাভাতে ৭৩.৯১ মিলিগ্রাম হয়। যাদের রক্তস্বল্পতা আছে তাদের জন্য পান্তাভাত খুবই উপকারি।

১০০ গ্রাম পান্তা ভাতে পটাসিয়াম বেড়ে ৮৩৯ মিলিগ্রাম হয়। ফলে যাদের হৃদরোগ আছে বা যাদের উচ্চ রক্ত চাপ আছে তাদের জন্য পান্তা উপকারী।

১০০ গ্রাম গরম ভাতে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ ২১ মিলিগ্রাম থাকে যা পান্তা ভাতে বেড়ে ৮৫০ মিলিগ্রাম হয়ে যায়। যাদের হাড় ক্ষয় রোগ বা দেহে ক্যলসিয়ামের অভাব আছে তাদের জন্য পান্তা মহা ঔষধ।

পান্তা ভাতে সোডিয়ামের পরিমাণ কমে ৪৭৫ মিলিগ্রাম থেকে ৩০৩ মিলিগ্রাম হয়।

পান্তাভাতে জিংকের পরিমাণও বেড়ে যায় অনেক গুণ।

পান্তাভাত রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পান্তা ভাত সহজে হজম হয়, শরীর হালকা থাকে এবং কাজে বেশি শক্তি পাওয়া যায়।

পান্তাভাতে মানব দেহের জন্য উপকারি বহু ব্যাকটেরিয়া রয়েছে।

পান্তাভাতে পেটের পীড়া ভাল হয় এবং শরীরে তাপের ভারসাম্য বজায় রাখে। সব ধরনের আলসার দূরীভূত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এবং শরীরে সজিবতা বজায় রাখে।

পান্তাভাত রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে। অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সবল হয় এবং মেজাজ ভাল থাকে। এলার্জি জনিত সমস্যা প্রশমিত করে এবং ত্বক ভাল থাকে।

পান্তাভাত তৈরির পদ্ধতিঃ

– রান্না ভাত সমপরিমাণ পানিতে ভিজানো।
– সংক্রমন এড়াতে খাবারের পাত্র ঢেকে রাখা।
-প্রায় ১২ ঘন্টা পরে তৈরি হয়।
-সাদা চালের পান্তা থেকে লাল চালের পান্তা অধিক পুষ্টিগুণ সম্পন্ন।
– বসা ভাত বা বৈঠা ভাত অর্থাৎ মার না ফেলে যে ভাত রান্না করা হয় সেই ভাতের পান্তার পুষ্টিগুণ মার ফেলা ভাতের পান্তা থেকে বেশি হয়।

পান্তাভাত লবন, মরিচ এবং কাটা পেঁয়াজ দিয়ে খাওয়া হয়। অনেকেই সাথে নানা রকম ভর্তা যোগ করেন যেমনঃ পাটশাক ভর্তা, আলু ভর্তা, চিংড়ি ভর্তা, বেগুন ভর্তা, ইত্যাদি।