আরও ১৬৪ স্থাপনায় এডিসের লার্ভা, ২০ মামলায় জরিমানা ৪ লাখ টাকা

dncc-1.jpg

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নগরবাসীকে ডেঙ্গু থেকে সুরক্ষা দিতে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

রোববার অভিযানের নবম দিনে মোট ১৩ হাজার ২০৫টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন ইত্যাদি পরিদর্শন করে ১৬৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পায় সংস্থাটি। এ ছাড়া ৮ হাজার ৮৪৭টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আজ ২০টি মামলায় মোট ৩ লাখ ৯১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও এডিসের লার্ভা পাওয়ায় অন্যান্য বাড়ি ও স্থাপনার মালিককে সতর্ক করা হয়েছে।

গত ৬ জুন থেকে আজ পর্যন্ত এই ৯ দিনে ৫৪টি ওয়ার্ডে মোট ১ লাখ ২০ হাজার ৮৩৩টি বাড়ি, স্থাপনা, নির্মাণাধীন ভবন পরিদর্শন করে মোট ১ হাজার ৪৩৩টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৮৩ হাজার ১৫৬টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এই ৯ দিনে মোট ১৯ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

আজ উত্তরা এলাকায় মোট ৭৬০টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২৬টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৫৯৮টি স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জুলকার নায়ন মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে উত্তরা ও খিলক্ষেত এলাকায় ৮টি মামলায় মোট ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মিরপুর-২ অঞ্চলে আজ ২ হাজার ৯৪১ টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৩টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ১ হাজার ৪৩৫টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শফিউল আজম ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ৬টি মামলায় মোট ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

মহাখালী অঞ্চলে আজ ১ হাজার ৫২৮টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪৫টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৯৫১টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাহিদ আহসান খিলগাঁও তালতলা এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যাওয়ায় ৬টি মামলায় মোট ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় এবং ৫০টি স্থাপনার মালিককে সতর্ক করেন।

dncc-1.jpg

মিরপুর-১০ অঞ্চলে ১ হাজার ৬৫৯টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১০টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৭০৬টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজার অঞ্চলে ১ হাজার ৯৯৭টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ২২টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ১ হাজার ৬৯৩টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

হরিরামপুর অঞ্চলে মোট ১ হাজার ৪৫৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৫টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ১ হাজার ২৮৭টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

দক্ষিণখান অঞ্চলে মোট ৮৭৫টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৯টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেলে মালিকদের সতর্ক করে লার্ভা ধ্বংস করা হয়। এ ছাড়া ৭৪২টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান অঞ্চলে মোট ৭৫২টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ৫ টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৪৭৯ টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

ভাটারা অঞ্চলে আজ ৪৯২টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ১২টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৩৪২টি বাড়ি- স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

সাতারকুল অঞ্চলে আজ ৭৪৩টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা এবং ৬১৪টি বাড়ি-স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

dncc-1.jpg

এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ থাকা স্থানগুলোতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনাপূর্বক কিটনাশক ছিটানো হয়েছে এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে পরবর্তীতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলমান এই অভিযানের আগে ১৬ মে থেকে শুরু করে ঈদুল ফিতরের আগ পর্যন্ত ১, ৬, ১২, ১৮ ও ৩২ নম্বর মোট ৫টি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। সে সময় ৯ হাজার ৪৬৩টি বাড়ি-স্থাপনা পরিদর্শন করে ১৮৭টিতে এডিস মশার লার্ভার সন্ধান পাওয়া যায়।

এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে ডিএনসিসির আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ১০ মে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হচ্ছে। বিভিন্ন বাড়ি, স্থাপনায় এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

লার্ভা পাওয়া স্থানগুলো হলো- পরিত্যক্ত টায়ার, বালতি, ফুলের টব, বোতল, পানির মিটার, গ্যারেজ, পানির হাউজ, মাটির পাত্র, ভাঙা মগ, বাড়ির মেঝে, পানির ট্যাংক, প্লাস্টিকের পাত্র, ছাদের ড্রেন, দইয়ের পাত্র, পরিত্যক্ত কমোড, ডাবের খোসা, ভাঙা পাতিল, বেইজমেন্ট, দুই বাড়ির মধ্যবর্তী স্থান ইত্যাদি।

অভিযান চলাকালে সব এলাকাতেই এলাকাবাসীকে এডিস মশার বিস্তার রোধে সচেতন করা হয় এবং জরুরি প্রয়োজনে রাস্তায় বের হলে অবশ্যই মাস্ক পরিধানসহ সবাইকে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেয়া হয়।

এএস/জেডএ/এমএস

.