ক‌রোনায় বাংলা‌দে‌শের রে‌মিট্যা‌ন্সে ধ‌সের শঙ্কা

jagonews24

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের অবদান অনস্বীকার্য। গত বছরও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত এক কোটির বেশি প্রবাসী প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় সাত শতাংশই আসে এ প্রবাসী আয় থেকে।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বড় সংকটে পড়েছে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের বর্তমান অবস্থা এবং তেলের দাম ও চাহিদা ক্রমাগত কমতে থাকায় প্রবাসী আয়ে বড় ধস নামতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্ব ব্যাংক জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় ২০২০ সালে বাংলাদেশের প্রবাসী আয় কমে ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে দাঁড়াতে পারে, অর্থাৎ এক বছরে রেমিট্যান্স কমছে প্রায় ২৫ শতাংশ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্যেও দেখা গেছে, গত বছরের তুলনায় মাসের হিসাবে রেমিট্যান্স প্রবাহ কমতে শুরু করেছে। অর্থাৎ, বিশ্ব ব্যাংকের আশঙ্কাই সত্য হতে চলেছে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম বলছে, রেমিট্যান্স প্রবাহে ধস থামাতে হলে দেশের অভিবাসন পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করা দরকার। উপসাগরীয় দেশগুলোতে পর্যটন, সেবা ও নির্মাণ খাতে কর্মরত অসংখ্য অভিবাসী সম্প্রতি চাকরি হারিয়েছেন। এসব দেশের মতো সিঙ্গাপুরেও অভিবাসী শ্রমিকরা করোনায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। সামাজিক দূরত্ববিহীন ঘনবসতিপূর্ণ স্থানে থাকায় অভিবাসীরা প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সামনে অনেকটাই অসুরক্ষিত হয়ে পড়েছেন।

এমন সংকটের কারণে বাহরাইন, কুয়েত, মালদ্বীপ, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো বাংলাদেশি অভিবাসীদের ফিরিয়ে নিতে চাপ দিচ্ছে। করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় বাংলাদেশ প্রবাসীদের ফিরিয়ে নিতে কিছুটা গড়িমসি করছে। তবে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেই সদ্য বেকার হওয়া এসব অভিবাসী দলে দলে দেশে ফিরতে শুরু করবেন। ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতিতে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের মতে, এই সংকট ঠেকাতে বাংলাদেশের এখনই কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে। শুধু বর্তমান লকডাউন পরিস্থিতিতেই নয়, করোনা পরবর্তী সময়েও অভিবাসন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হতে হবে এখনই।

সূত্র: ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম
কেএএ/

.