চাঁদপুরের ইলিশ বলে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে সাগরের ইলিশ

ইলিশ

পুরো মৌসুমেও চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ দেখা যায় না। কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। লক্ষ্মীপুর, হাতিয়া, সন্দীপ, বরিশাল, ভোলা সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে চাঁদপুর ইলিশ আসার কারণে চাঁদপুর ফিশ মার্কেটে এখন বিক্রি হচ্ছে বেশিরভাগ ইলিশ। মিয়ানমার থেকেও অনেক ইলিশ আসে।

গত বছরের তুলনায় এ বছর চাঁদপুর সমুদ্র সীমান্তে পদ্মা-মেঘনা নদীতে রৌপ্য ইলিশের ঘাটতি রয়েছে। ফলশ্রুতিতে জেলেরা ও মাছ ব্যবসায়ীরা চড়া দামে ইলিশ বিক্রি করছেন। ইলিশের দাম সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে।

আশার ও শ্রাবণের পুরো সময়টাই ইলিশ ভরা মরসুম। তবে সেই সময়ের পরে ভাদ্র মাস শুরু হয়েছে। তারপরেও নদীতে ইলিশ দেখা যায় না। চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর বুক এখন প্রায় শূন্য। এর বেশিরভাগ অংশ সমুদ্রের মধ্যে পাওয়া যায়। সেই ইলিশের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। ১ কেজি বা তারও কম ইলিশ মাছের বাজারে বিক্রি হচ্ছে Rs০০ টাকায়। আর জাটকা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৫ শ ’টাকায়। স্বাদ নিকটবর্তী হওয়ায় দক্ষিণ থেকে এই ইলিশ চাঁদপুরের ইলিশ হিসাবে স্থানীয় বাজারে বিক্রি হচ্ছে। এখন প্রতিদিন শত শত টন ইলিশ দক্ষিণ অঞ্চল থেকে ১০-২০ ট্রাক করে চাঁদপুরে বিক্রি করা হচ্ছে। প্রতি কেজি 500-600 টাকা দামে ইলিশ চাঁদপুর বড় স্টেশন ইয়ার্ডে আনা হয় এবং 600-1000 টাকায় বিক্রি হয়।

ইলিশ ব্যবসায়ী আকবর আলী, মোঃ বিপ্লব ও সম্রাট হোসেন জানান, এখন ইলিশ ভরা মৌসুম। তবে বাজারে ইলিশের আমদানি নেই বলে ছাড়াই যায়। এই সময়কালে, অন্যান্য বছরগুলিতে ইলিশের 10,000 থেকে 15,000 মন আমদানি করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ইলিশের আমদানি 300 থেকে 400 মনস। ফলে ইলিশের দাম কিছুটা বেড়েছে। বর্তমানে হাতিয়া, সন্দীপ, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর থেকে চাঁদপুরে কয়েকটি ইলিশ আমদানি করা হচ্ছে। তবে চাহিদার তুলনায় আমদানির পরিমাণ কয়েকগুণ বেশি। আমরা যদি পুরো মৌসুমে ইলিশ আমদানি না করি তবে আমাদের অনেক লোকসান গুনতে হবে।

চাঁদপুর ফিশারি মার্চেন্ট কো-অপারেটিভ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো। শবেবারত জানান, ইলিশের আমদানি কম এবং দামও বেশি। গত এক সপ্তাহে ইলিশ আমদানি দুই-তৃতীয়াংশ হ্রাস পেয়েছে। স্থানীয় নদীতে কোন মাছ নেই বলে এটি ছাড়াই যায়। Eidদের পর পরপর বেশ কয়েকদিন ইলিশের গড়ে দেড় হাজার মানস আমদানি ও সরবরাহ করা হত। এখন পর্যন্ত একদিনে ৫ শ ‘মন ইলিশ আমদানি হচ্ছে না।

চাঁদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান বলেছেন, ইলিশ চেনা সবার পক্ষে মুশকিল। এর সমাধান খুঁজে পাওয়া মুশকিল। অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা ইলিশকে চাঁদপুরের ইলিশ বলা হয়। তবে এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সকলের চাঁদপুরের সুনাম রক্ষায় সাবধানতার সাথে কাজ করা উচিত। ক্রেতাদেরও চেক করে ইলিশ কিনতে বাছাই করতে হবে।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড। মোঃ আনিছুর রহমান বলেন, নদীতে নতুন অমাবস্যা এবং পূর্ণিমার উপর ভিত্তি করে জোয়ারগুলি প্রভাবিত হয়। পূর্ণিমা বা অমাবস্যার সময়কে বরকতাল বলে। এবং পূর্ণিমা এবং অমাবস্যার মধ্যবর্তী সময়টিকে বলা হয় মারাকাতাল। মারাকাতালে নদীর উপর জলোচ্ছ্বাসের প্রভাব কম থাকে।

তিনি বলেছিলেন যে মারাকাতাল বর্তমানে চলছে। তাই জেলেরা কম মাছ পাচ্ছেন। তবে তিনি আশা করছেন যে জেলেদের জাল কিছুদিনের মধ্যে পূর্ণিমায় পূর্ণ হবে। তিনি আরও বলেন, নদীর বিভিন্ন স্থানে ডাইভারশন ও দূষণের কারণে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ মৌসুমেও জেলেরা তাদের কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পান না।

নিয়ন্ত্রন অনুযায়ী নদী নিয়ন্ত্রণ ও দূষণ রোধ করতে পারলে জেলেরা চাঁদপুরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাবে। মত্স্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক বলেছেন, ইলিশের উৎপাদন আগের বছরের মতো এবারও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। মোঃ আনিসুর রহমান।

এফএ / জেআইএম