ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ সভাপতি পলাশকে হারানোর ১৭ বছর আজ

jagonews24

‘যতবার হত্যা করো জন্মাব আবার, দারুণ সূর্য হব, লিখব নতুন ইতিহাস’ জীবনের শেষ বক্তৃতায় এই কথাগুলো বলেছিলেন ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এস আর পলাশ। ২০০৩ সালের আজকের এই দিনে (১৬ জুন) রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে নিহত হন জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ তথা ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের একটি জনপ্রিয় নাম ছিল এস আর পলাশ। যার পৈত্রিক নিবাস ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায়। ৯০ এর দশক থেকেই যুক্ত হন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে। সাধারণ ছাত্রদের নিকট ছিলেন জনপ্রিয় আর টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীদের নিকট ছিলেন মূর্তিমান আতঙ্ক।

ভালো বক্তা আর মেধাবী এই ছাত্রনেতা ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক পড়া অবস্থায়ই জড়িয়ে পড়েন ছাত্রলীগের রাজনীতিতে। ছাত্র রাজনীতিতে আসার আগে বিটিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘জ্ঞান জিজ্ঞাসা’র উপস্থাপনা করতেন তিনি। উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েও ভর্তি হননি পলাশ।

ঢাকা কলেজ আর ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের রাজনীতিকে ভালোবেসে স্নাতকে ভর্তি হন ঢাকা কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। পরবর্তীতে ১৯৯৮ সালে গঠিত ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান তিনি। দায়িত্ব পালন করেন ২০০২ সালের শেষ পর্যন্ত। ২০০৩ সালে দায়িত্ব পান ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের।

তবে বেশিদিন আর সেই দায়িত্ব পালন করতে পারেননি তিনি। ২০০৩ সালের আজকের এই দিনে (১৬ জুন) রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে নিহত হন জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা। তার মৃত্যুর খবর ঢাকা কলেজে পৌঁছানোর পর শুরু হয় আন্দোলন। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নির্দেশে সারাদেশেই আন্দোলন চলতে থাকে। ১৮ ও ১৯ জুন সারাদেশে হরতাল পালিত হয়।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের ১৯৯৮ সালের কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ রেজওয়ানুর রহমান রিয়াদ। এস আর পলাশের স্মৃতিচারণ করে জাগো নিউজকে তিনি বলেন,‘অতি জনপ্রিয়তাই তার অকাল মৃত্যুর কারণ। সবাই তাকে অনেক পছন্দ করতেন। জনপ্রিয়তার শীর্ষে ছিলেন। সারাদেশের ছাত্রসমাজের একজন রোল মডেল ছিলেন তিনি। রাজনৈতিক প্রজ্ঞা আর সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সাধারণ ছাত্রদের মধ্যে ওনার জনপ্রিয়তা অনেক বেশি ছিল। হলের কক্ষগুলোতে রাতে যেতেন শিক্ষার্থীদের খোঁজ খবর নিতেন। খাওয়া-দাওয়া বা পড়াশোনা ঠিকমতো করছে কিনা, পরীক্ষার ফলাফল এমনকি শিক্ষার্থীদের পরিবার সম্পর্কেও খোঁজ নিতেন তিনি।’

তার চলে যাওয়া ছাত্র রাজনীতি তথা দেশের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় এক ক্ষতি বলে মনে করেন সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা ৷

jagonews24

এস আর পলাশ ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি থাকাকালীন কমিটির ক্রীড়া সম্পাদক ছিলেন মো. সায়েম ইবন ইসলাম অনিক। পরবর্তীতে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি হন তিনি। অনিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘রাজনীতির জন্য রাজনীতি করা, দেশের জন্য রাজনীতি করা, রাজনীতিকে ভালোবেসে রাজনীতি করা এই সবকিছু মিলিয়ে তিনি স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে রাজনীতি করেছেন। দলের জন্য কাজ করেছেন, দলকে কীভাবে গোছানো যায় সেই কাজগুলোই করেছেন তিনি।

ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফুয়াদ হাসান পল্লব বলেন, ‘পলাশ ভাইয়ের হাতেই আমার রাজনীতির হাতেখড়ি। তৎকালীন সময়ে একজন জনপ্রিয় ও কর্মীবান্ধব নেতা ছিলেন। তিনি আজীবন আমাদের অন্তরে রয়ে যাবেন।’

প্রতিবছর আজকের এই দিনে এস আর পলাশের স্মরণে ঢাকা কলেজে আলোচনা অনুষ্ঠান ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ। তবে করোনা পরিস্থিতির কারণে ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় এবার তা সম্ভব হয়নি। তবে সীমিত পরিসরে রাজধানীর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবি করবস্থানে এস আর পলাশের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছে ঢাকা কলেজ ছাত্রলীগ।

এমএফ

.