দুই ঘণ্টার বৃষ্টিতে খুলনা শহরের বেহাল অবস্থা

jagonews24

খুলনার মূল সড়ক সহ প্রায় প্রতিটি মহল্লা মাত্র দুই ঘন্টা বৃষ্টিতে ডুবে গেছে। নগরবাসীকে প্রায় প্রতিদিনই এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমনকি বৃষ্টি থামার কয়েক ঘন্টা পরেও রাস্তায় নোংরা পানি জমে ছিল। পথচারীরা চরম সঙ্কটে রয়েছে।

নিকাশী ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সমন্বয়হীনতার কারণে এবং আধুনিক ড্রেনগুলির অত্যন্ত ধীরগতির কারণে বর্তমান বর্ষা মৌসুমে এ জাতীয় কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হবে বলে নগরবাসী জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২ July জুলাই) সকাল থেকে খুলনায় আকাশ মেঘলা ছিল। বেলা সোয়া বারটার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। এটি অব্যাহত থাকে দুপুর ২ টা অবধি। বৃষ্টি শুরু হওয়ার কারণে শহরে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতা থাকলে, ড্রেন থেকে ময়লা রাস্তায় আসে। সাধারণ পথচারী এবং যানবাহনের চালকরা চরম সঙ্কটে পড়েছেন।

নগরীর পিটিআই মোড়ের বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সাদি জানান, সামান্য বৃষ্টি হলে মোড়ের ছয়টি রাস্তা ডুবে যাবে। রাস্তার পরে, দু’বছর আগে তৈরি উঁচু জায়গাগুলির কারণে দীর্ঘদিন ধরে জল স্থবির হয়ে পড়েছে। নদীতে জোয়ার প্রবাহ শুরু না হলে এই জল চলাচল করে না। এর জন্য আপনাকে এই নোংরা জলে 4-5 ঘন্টা হাঁটতে হবে।

তিনি প্রতি বর্ষায় শহরে এমন জলাবদ্ধতার জন্য খুলনা সিটি কর্পোরেশনকে দোষ দিয়েছেন। তাঁর মতো বেশ কয়েকজন পথচারী বলেছিলেন যে সামান্য বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। মানুষ চলাচল করতে পারে না। গাড়ি থামল রাস্তায়। পানির কারণে রিকশা ও ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে।

jagonews24

শুধু পিটিআই জংশন নয়, আজকের শহরের ভারী বৃষ্টিপাতটি শহরের সাতটি রোড মোড়, দোলখোলা, টুটপাড়া মোড়, মুজগুন্নী বাস্তুহার, সোনাদঙ্গা আবাসিক অঞ্চল প্রথম পর্ব, গোবরচাকা, নবীনগর, বয়রা বাজার মোড়, জব্বার সরণি, জলিল সরণি অঞ্চল, শামসুর রহমান রোড, শামসুর রহমান রোড ওয়াটার মাটির তলে প্রবেশ করেছে। ড্রেনের পানি নিষ্কাশন না করায় শান্তিধাম জংশন, রয়েল জংশন, পূর্ব বানিয়াখামার, নিরালা, দোলখোলা, বাগমারা, মিস্ত্রিপাড়া, বৌটিপাড়া, খানজাহান আলী রোড, রূপশা স্ট্যান্ড রোড, খালিশপুর, দৌলতপুরসহ শহরের বিভিন্ন অঞ্চলের রাস্তা তলিয়ে গেছে।

খুলনা আঞ্চলিক আবহাওয়া অফিসের দায়িত্বরত প্রবীণ আবহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ বলেছেন, দুপুর বারোটা থেকে দুপুর ২ টা পর্যন্ত ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত প্রায় দুঘণ্টা খুলনায় বর্ষণ করেছিল। এই সময়ে মোট 39 মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা এই বর্ষা মৌসুমে স্বল্প সময়ের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

আলমগীর হান্নান / এএম / এমকেএইচ