মেঘনা নদীতে ইলিশ নেই

jagonews24

জলিল মিয়া। তিনি তার পুরো জীবন কারাগারে কাজ করে কাটিয়েছেন। অন্য কোনও কাজ শেখার চেষ্টা কখনও করেনি। আমি ভেবেছিলাম এই পেশা দিয়ে আমার ভাগ্য পরিবর্তন করব।

কিন্তু জীবনের এই ক্ষয়িষ্ণু সময়ে তিনি বিভিন্ন সমস্যায় এসেছেন। পার্থিব সংকোচনের পাশাপাশি তিনি নদীতে ইলিশ না পেয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন। আর এর মূল কারণ মেঘনার বুকে ইলিশ না পাওয়া।

পটুয়াখালী ও বরিশালে প্রচুর ইলিশ পাওয়া গেলেও আশানুরূপভাবে চাঁদপাড়ের মেঘনায় ইলিশ পাওয়া যায়নি। আর তাই স্থানীয় দোকানদার ও জেলেরা হতাশায় ভুগছেন।

মঙ্গলবার বিকেলে দেখা গেল নদীতে তেমন ইলিশ নেই। জেলেরা সারা দিন নদীতে পড়েও নৌকার জ্বালানী ব্যয় বাড়াতে পারছে না।

শফিক, হারুন, মোতালেবসহ একাধিক কারাগারের সাথে আলাপকালে তারা বলেছিলেন যে নদীতে মাছের পরিমাণ মোটেই পাওয়া যায়নি। নদীতে কোনও মাছ নেই, তাই সংসার চালানো কঠিন।

স্থানীয় জেলে জসিম উদ্দিন জানান, আমি ভোর চারটায় নদীতে যাই। আমি এখন এগারোটায় পৌঁছেছি। কিন্তু কোনও মাছ দেখা গেল না। কয়েক হাজার টাকা দামের মাছ পেলাম। আমরা যদি খুব কম মাছ ধরে, আমরা চালিয়ে যেতে পারব না।

হরিনা ঘাটের স্টোরকিপার হারুন খান জানান, এখন মাছ ধরার মরসুম হলেও জেলেরা নদীতে মাছ পাচ্ছেন না। কিছু দিন পর মা ইলিশ সুরক্ষা কার্যক্রম আবার শুরু হবে তাই আমরা খুব চিন্তিত। জেলেরা নদীতে মাছ না পাওয়ায় তারাও আমাদের হারাচ্ছে। তদুপরি, আমাদের এখন অলস সময় কাটাতে হবে।

হরিনা ঘাটের অপর দোকানদার আবদুল কাদের ছায়াল জানান, জেলেরা এখন নদীতে বেশি মাছ পাচ্ছে না। তাই আমরাও অনেক কষ্ট করছি। আমরা এটি নিয়ে খুব চিন্তিত কারণ আমরা জেলেদের প্রচুর অর্থ প্রদান করি। সময় এসেছে তাকে ফেলে দেওয়ার এবং এগিয়ে যাওয়ার। এখন কীভাবে করব তা আমি বুঝতে পারছি না।

মাছের স্বল্প প্রাপ্যতা সম্পর্কে চাঁদপুরের ইলিশ গবেষক ডঃ আনিসুর রহমান বলেছিলেন যেহেতু দক্ষিণাঞ্চলের পটুয়াখালী, ভোলা এবং চর ফ্যাশন সহ বিভিন্ন অঞ্চলে মাছ পাওয়া যাচ্ছে, তাই অল্প সময়ের মধ্যে চাঁদপুরে মাছ ধরা পড়বে । এতে হতাশ হওয়ার কিছু নেই।

এমআরএম