কদিন পরই বাড়ি ফেরার কথা ছিল ফরিদের, ফিরলেন লাশ হয়ে

jagonews24

শেখ ফরিদ কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফারাদী ইউনিয়নের চরপাড়তলা গ্রামের এমদাদুল হকের পাঁচ সন্তানের মধ্যে বড় ছিলেন। তিনি নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অফিস সহায়কের ভূমিকায় কাজ করতেন। সে তার বাবাকে ডেকে জানিয়েছিল যে কিছুদিনের মধ্যেই সে বাসায় চলে আসবে। তিনিও এলেন। তবে কফিনটি লাশ হয়ে গেল।

শেখ ফরিদ ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তলে বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে তিনি গুরুতর আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ছয় দিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করে অবশেষে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যু পরিবারের সুখ ও স্বপ্নকেও হত্যা করেছিল।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে তার মরদেহ পাকুন্দিয়া উপজেলার চরফারাদি চরপাড়তলা গ্রামে আনা হলে তার স্বজনদের নির্দেশে এলাকায় শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। স্থানীয়রা তাকে শেষবারের জন্য দেখতে ছুটে যায়।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। তাঁর জানাজায় শত শত বৃষ্টি-ভিজে স্থানীয় লোকজন অংশ নিয়েছিল।

jagonews24

এদিকে, শেখ ফরিদ পরিবারটি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারিয়েছে। তার বাবা এমদাদুল হক বলেছেন, আমার ছেলে সর্বদা সংসারের কথা ভেবেছিল। তিনি সবসময় বলেছিলেন- বাবা, চিন্তা করবেন না। আমি আমার ভাইবোনদের শিক্ষিত করব। আমি বিশ্বে সমৃদ্ধি আনব। তবে কী হয়ে গেল। আমি এই শোকটি কীভাবে সেলাই করতে পারি!

নুর মোহাম্মদ / আরএআর / জেআইএম