নবজাতকের মরদেহ নিয়ে ফেরার পথে মাসহ ৬ জনের মৃত্যু

বুস

বরিশালের উজিরপুরে একটি অ্যাম্বুলেন্স ও কাভার্ড ভ্যানের সংঘর্ষে ছয়জন নিহত হয়েছেন। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে উপজেলার আটিপাড়া সড়কের মাথায় Dhakaাকা-বরিশাল মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই অ্যাম্বুলেন্সের যাত্রী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তারা নবজাতকের লাশ নিয়ে Dhakaাকা থেকে ঝালকাটিতে ফিরছিলেন।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের নাম পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন- নিহতের বাবা আরিফুর রহমান, শিউলি বেগম, কোহিনুর বেগম, চাচা কাইয়ুম হোসেন তারেক এবং অ্যাম্বুলেন্সের চালক আলমগীর কবির। চালক আলমগীর কবির কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। আর এক নবজাতকের মামা নিহত হয়েছেন। তবে পুলিশ তার নাম প্রকাশ করতে পারেনি।

এদিকে দুর্ঘটনার পরে এমএম পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস পেছন থেকে কভার্ড ভ্যানটিকে ধাক্কা দেয়। আহত হয়েছেন বাসের ৮-১০ যাত্রী।

উজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল আহসান জানান, অ্যাম্বুলেন্সটি Dhakaাকা থেকে ঝালকাঠি যাচ্ছিল। অন্যদিকে, কাভার্ড ভ্যানটি বরিশাল থেকে Dhakaাকা যাচ্ছিল। উপজেলার আটিপাড়া রোডে অ্যাম্বুলেন্স ও কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অ্যাম্বুলেন্সটি মোচড় দেওয়া হয়েছিল। অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে থাকা ছয়জন যাত্রী মারা যান।

এর কিছুক্ষণ পরেই কাভার্ড ভ্যানটিকে এমএম ট্রান্সপোর্ট নামে একটি যাত্রীবাহী বাস পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। আহত হয়েছেন বাসের ৮-১০ যাত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দুর্ঘটনাটি এক ঘণ্টার জন্য মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত করে।

ওসি জিয়াউল আহসান জানান, তামার্না নামের একটি শিশুর জন্ম গত ২ সেপ্টেম্বর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতালে হয়েছিল। দু’দিন পরে শিশুটি মারা যায়। সকালে স্বজনরা তার মরদেহ Dhakaাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে ঝালকাটিতে তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। পথে দুর্ঘটনায় তারা মারা যান। লাশ উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। কাভার্ড ভ্যানের চালক ও হেল্পার দুর্ঘটনার পরপরই পালিয়ে যায়। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

উজিরপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সানজ মিয়া বলেছেন, দুর্ঘটনাটি অ্যাম্বুলেন্স বা একটি কভার্ড ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হেরে ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানা যাবে।

সাইফ আমিন / আরএআর / পিআর / এমএস