অবশেষে স্বপ্নের কলেজে ভর্তি হচ্ছে রনি

রনি- (2) .jpg

দেশের সেরা রাজশাহী কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া সোনার হরিণের মতো। মেধাবী শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম রনি সুযোগ পেয়েও এই কলেজে ভর্তি হতে পারেননি।

রবিবার মাত্র পাঁচ হাজার টাকা না থাকায় তাকে কলেজে ফিরতে হয়েছিল। সোমবার দেশের শীর্ষ অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগো নিউজে এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। খবরটি তাত্ক্ষণিকভাবে ভাইরাল হয়ে গেল। হৃদয়দানার সাহায্যের জন্য দেশ-বিদেশ থেকে রনির সাথে যোগাযোগ হয়েছিল।

এই খবরটি নজর কেড়েছিল রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মহা। হাবিবুর রহমান। তিনি রনিকে দুপুরের দিকে তার অফিসে ডেকেছিলেন। তত্ক্ষণাত্ তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করলেন। তিনি তাকে সর্বাত্মক সহায়তার আশ্বাসও দিয়েছিলেন। এ সময় কলেজের সহ-সভাপতি অধ্যাপক মো। আবদুল খালেক উপস্থিত ছিলেন।

রবিউল ইসলাম রনি নওগাঁর মান্দা উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের এতিম শিমলা এলাকার জসিম উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তার বাবা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতেন। মা রহিমা বিবিও তার স্বামী এবং পরিবার সম্পর্কে চিন্তাভাবনার ভারসাম্য হারিয়েছেন।

উপজেলার কালিগ্রাম দোডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয়ের রনি এবার এসএসসি পরীক্ষায় সোনার জিপিএ -৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন। রনি অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আবেদন করে রাজশাহী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বিবেচিত হয়েছে।

রবিবার থেকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রতিবেশী সোহেল রানার সহায়তায় রনি একই দিন রাজশাহীতে পৌঁছেছিল। তিনিও ভর্তির কাগজপত্র নিয়ে কলেজে যান। তবে ভর্তির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটাতে না পারায় তাদের খালি হাতে ফিরতে হবে। এখন যে স্বপ্নের কলেজে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে গেছে, রবিউল ইসলাম রনি সংবেদনশীল।

তিনি বলেছিলেন যে তার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে তাকে বাড়ি থেকে গ্রামের কোনও কলেজে যেতে হতে পারে। এই গবেষণা চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। তবে তার স্বপ্ন বাস্তব হচ্ছে। রাজশাহী কলেজে ভর্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে। অধ্যক্ষ স্যারকে ডেকে তাঁর ভর্তির ব্যবস্থা করলেন। মঙ্গলবার তিনি দেশে ফিরবেন।

কঠোর অধ্যয়ন করে রনি তার লক্ষ্যে পৌঁছতে চায়। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের সহায়তার জন্য তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা। হাবিবুর রহমান বলেন, সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আসল মাপদণ্ড আমাদের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা কতটা করছি। রাজশাহী কলেজ সেরা, এর অর্থ সর্বোত্তম, সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী নেতারা সবাই এই শ্রেষ্ঠত্বের অংশীদার।

আমরা চাই অর্থের অভাবে দরিদ্র পরিবারের শিশুরা যাতে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়। রাজশাহী কলেজ তার লেখাপড়ার ব্যয় বহন করবে।

ফেরদৌস / এমএএস / এমএস

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]