অবিশ্বাস্য, বুকে ছুরি নিয়ে ১২ ঘণ্টায় চার হাসপাতাল ঘুরে ঢাকায়

jagonews24

এক কথায় অবিশ্বাস্য! বেহশত আরার বয়স 50 বছর। মধ্য বয়সে তার প্রাক্তন স্বামী তাকে আক্রমণ করেছিলেন। প্রাক্তন স্বামী বুকে দীর্ঘ ছুরি রেখেছেন। বেহেশত আরা বুকে ও পিঠে ছুরি নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটে যায়।

সকাল 9 টা থেকে 9 টা পর্যন্ত। 12 ঘন্টা ছুরিকাঘাতে তাকে এক হাসপাতালে থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল। উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতাল থেকে জেলা হাসপাতাল। জেলা থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। তারপরে Dhakaাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। অবশেষে রাত ৯ টায় তাকে Dhakaাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিশোরগঞ্জের এই মহিলাকে বুকে ও পেটে ছুরি দিয়ে অবিশ্বাস্য যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়েছিল।

পারিবারিক কলহের জের ধরে বেহশত আরা ও তার ছোট বোন অনুফা আক্তার (৪৫) তাদের প্রাক্তন স্বামীকে ছুরিকাঘাত করেছিল। বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের মধ্যপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বেহশত আরা করিমগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের বহেরচর গ্রামের মৃত দ্বীন ইসলামের ছেলে। হামলাকারী মো। জিল্লুর রহমান একই এলাকার কেরামত আলী ওরফে গাটা মিয়ার ছেলে।

স্থানীয়দের মতে, বেহশত আরার স্বামী 10 বছর আগে মারা গেছেন। স্বামীর মৃত্যুর কয়েক বছর পরে জিল্লুর রহমান গোপনে বেহেশত আড়াকে বিয়ে করেছিলেন। তবে তাদের কোনও বাড়ি ছিল না। কয়েক বছর আগে বিয়ের বিষয়টি প্রকাশিত হওয়ার পরে দুই পরিবারের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছিল। দুই পরিবার ইতিমধ্যে জমি নিয়ে মামলা এবং বিরোধে জড়িত ছিল।

এ অবস্থায় বেহশত আরা গত মাসে জিল্লুর রহমানকে তালাক দিয়েছিল। তারপরে স্ত্রীর সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত হয়ে তিনি রেগে যান। প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা অনুযায়ী বুধবার বেহেশত আরা আক্রমণ করা হয়েছিল।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে অটোরিকশায় বাড়ি থেকে কিশোরগঞ্জ যাচ্ছিলেন বেহশত আরা ও ছোট বোন আনুফা আক্তার। সকাল ৯ টার দিকে জিল্লুর রহমান নিয়ামতপুর মধ্যপাড়া এলাকায় একটি রিকশা থামিয়ে বেহেশত আড়ায় আক্রমণ করেন। এ সময় জিল্লুর তার ছোট বোনকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করলে তাকে ছুরিকাঘাত করে। আনুফাকে আহত করার পরে, জিল্লুর রহমান বেহশত আরার বুকে একই ছুরি রেখেছিলেন। ছুরিটি তার বুকে গিয়ে একটি গর্ত দিয়ে বেরিয়ে এল।

বেহশত আরা ও আনুফা বেগমকে উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। সেখান থেকে তাদের কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে দুই বোনকে কিশোরগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে ছোট বোনকে চিকিৎসা দেওয়া হলেও বড় বোনের ছুরি খুলতে সাহস করেননি চিকিৎসক।

এ অবস্থায় বেহশত আরাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল। বিকেল তিনটায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পরে তাকে বিকেলে গুরুতর অবস্থায় Dhakaাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। তাকে বহনকারী একটি অ্যাম্বুলেন্স রাত ৯ টার দিকে Dhakaাকা মেডিকেলে পৌঁছে।

“আমার মা এখনও বেঁচে আছেন,” বেহশাত আড়ার ছেলে বাহাদুর মিয়া বলেছিলেন। হাসপাতালে তার চিকিৎসার জন্য সব প্রস্তুতি চলছে। তাকে এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

বর্বর হামলায় স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ। তারা জিল্লুর রহমানকে তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। জমি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে এই ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ জানিয়েছে। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো। মুমিনুল ইসলাম জানান, জিল্লুর রহমান ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে। জিল্লুর autাকায় একটি অটোরিকশা চালিত করেছিলেন। মঙ্গলবার তিনি Dhakaাকা থেকে বাসায় আসেন। বিবাহ বিচ্ছেদ এবং জমির বিরোধ এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে এই ঘটনাটি ঘটেছিল।

নুর মোহাম্মদ / এএম / পিআর

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]