এখনো পানির জন্য হাহাকার সিলেটে, বিদ্যুৎ নেই বেশিরভাগ এলাকায়

jagonews24

সিলেটের কুমারগাঁওয়ের ১৩২/৩৩ কেভি জাতীয় গ্রিড লাইনের সাবস্টেশনে আগুন লাগার ৫৩ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও সিলেটের দুই তৃতীয়াংশ এলাকায় এখনও বিদ্যুৎ নেই। অগ্নিকাণ্ডের পর মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকাল ১১ টা থেকে সিলেট ও ​​সুনামগঞ্জ জেলার কয়েকটি অংশ বিদ্যুৎহীন হয়ে যায়। একত্রিশ ঘন্টা পরে বুধবার সন্ধ্যা সোয়া :15 টার দিকে শহরের পাঁচ-ছয়টি অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও জেলার বেশিরভাগ অংশ অন্ধকারে রয়েছে।

এ অবস্থায় নগরবাসীসহ আশপাশের উপজেলার প্রায় চার লাখ গ্রাহক চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। একমাত্র সিলেট নগর ও সদর উপজেলায় প্রায় 75৫,০০০ গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। হাসপাতালের বিভিন্ন বাড়ির লোকজন এবং রোগীরাও সমস্যায় পড়েছেন। বিদ্যুতের অভাবে অফিস-আদালতের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সিলেটবাসী ৫৩ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অন্ধকারে রয়েছেন। বাড়িতে তীব্র জলের সংকট রয়েছে। মানুষ পানির জন্য কাঁদছে। পানি সরবরাহের ব্যবস্থা বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে সিলেটের মানুষ অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেককে বোতলজাত পানি দিয়ে জরুরি কাজ করতে দেখা গেছে। পানির দোকানে মানুষের দীর্ঘ লাইন। মানুষ পানির সন্ধানে ছুটে চলেছে।

দীর্ঘদিন বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল ফোন নেটওয়ার্কে একটি সমস্যা রয়েছে। তাদের মোবাইল ফোন চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ায় তাদের অনেকেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। ফলস্বরূপ, বিদ্যুৎ কখন আসবে তা তারা জানে না।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় (১৯ নভেম্বর) সিলেটের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে বলে সিলেট বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

jagonews24

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের (বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ) প্রধান প্রকৌশলী খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, আমরা কাজ করছি। আমরা আশা করি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ বাকি গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে সক্ষম হব। ‘

তিনি বলেছিলেন, “বুধবার সন্ধ্যা till টা অবধি আড়াই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎবিহীন ছিলেন। বুধবার সকাল ৮ টা থেকে আমরা বেশ কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আসছি। যে সমস্ত সরঞ্জাম পোড়ানো হয়েছে সেগুলি মেরামত করা হয়েছে এবং আরও কাজ চলছে। ‘

jagonews24

বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ -১, ২ ও ৪ এর আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। বাকি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কাজ চলছে। এটি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর তালতলা, মাছিমপুর, ঘাসিটুলা, কলাপাড়া, জল্লারপাড়, ভাটালিয়া, কুয়ারপাড়, মির্জাজঙ্গল, দরিয়াপাড়া, লামাবাজার, রিকাবিবাজার, মীরের ময়দান, আখালিয়া ও দক্ষিণ সুরমা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়নি। শহর ও বিভিন্ন উপজেলার উপকণ্ঠে অঞ্চল বিদ্যুৎহীন।

jagonews24

সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর বলেছিলেন, “আমাদের সিটি কর্পোরেশন এলাকায় আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে। যেসব অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছে সেখানকার সিটি কর্পোরেশনের গভীর নলকূপ থেকে অবিলম্বে জল সরবরাহ শুরু করা হয়েছে।” সিটি কর্পোরেশনের বিদ্যুৎ শোধনাগারও শুরু করা হয়েছে।

তিনি বলেছিলেন, “সাধারণত সিটি কর্পোরেশনের আওতায় রাত ১১ টা অবধি জলের পাম্পগুলি পরিচালিত হত। এখন সেগুলি সকাল দুপুর ২ টা পর্যন্ত চালানো হয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে আমি জল সরবরাহকে স্বাভাবিক করতে সক্ষম হব।”

চামির মাহমুদ / এসআর / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ-বেদনা, সংকট, উদ্বেগের মধ্যে সময় কেটে যাচ্ছে। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]