কন্যা সন্তান প্রসব করলেন পাগলি, কোলে তুলে নিলেন ডিসি

jagonews24

মানসিক প্রতিবন্ধী (পাগল) যুবতী ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা বাজার ঘুরে বেড়াতেন। সে তার নাম বা পরিচয় বলতে পারে না। একসময় ওই যুবতী অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং উপজেলার মেধরপুর গ্রামে এক দিনমজুর পরিবারে বসতি স্থাপন করেন। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক জানিয়েছিলেন যে মেয়েটি গর্ভবতী।

মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটি শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি শিশু কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়। তারপরে বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে প্রশ্ন উঠল এই সন্তানের বাবা কে? তার বংশ কি হবে? কে দায়িত্ব নেবে?

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক (ডিসি) সরোজ কুমার নাথ দ্রুত হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি নবজাতককে নিজের বাহুতে নিয়ে গেলেন। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুবর্ণা রানী সাহা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ফেসবুকের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এই বিষয়টি দেখভাল করার জন্য আমাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ অনুযায়ী নবজাতক এবং তার মায়ের সমস্ত চিকিত্সা ব্যয় জেলা প্রশাসন বহন করবে।

এর আগে সকালে স্থানীয় জন প্রতিনিধি আমজাদ আলী ও ছকিরন নেছার সহায়তায় মানসিক প্রতিবন্ধী মেয়েটিকে কালীগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। এরপরে বিকেল চারটার দিকে মানসিক প্রতিবন্ধী একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেয়।

দিনমজুর আমজাদ আলী জানান, উপজেলার কোলাবাজারে অজ্ঞাতপরিচয় একটি 22 বছর বয়সী মানসিক প্রতিবন্ধী কিশোরী ঘুরে বেড়াত। কখনও তিনি তার নোংরা কাপড়টি তার শরীরের চারপাশে জড়িয়ে রাখতেন এবং কখনও কখনও অর্ধ নগ্ন মুখে কিছু বলতেন। কেউ কিছু বললে সে নেমে আসত। তিনি আর কখনও ঠান্ডা মেজাজে ছিলেন না। তবে এক সপ্তাহ আগে মেধরপুর গ্রামের রাস্তার ধারে অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই তরুণী।

তিনি বলেছিলেন যে অসহায় অসুস্থ মানুষটি কারও সন্তান বা বোন। এই ভেবে আমি তাকে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ওই গ্রামের আবদুর রশিদ সহ আরও কয়েকজনকে ভর্তি করলাম। কিন্তু কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীকে দেখে বললেন যে মেয়েটি গর্ভবতী ছিল। এখন তার পর্যাপ্ত খাবার এবং বিশ্রাম দরকার।

আমজাদ আলী জানান, মেয়েটিকে হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হলে সুস্থ হওয়ার সাথে সাথেই সে পাগল হতে শুরু করে। অস্থির হয়ে ওঠে পুরো হাসপাতাল। তাকে বাধ্য হয়ে গাড়ি ভাড়া নিয়ে আবার এলাকায় নিয়ে যায়। যদিও অনেকে তাকে আশ্রয় দিতে চেয়েছিলেন, অস্থিরতার কারণে সবাই তাকে এড়িয়ে চলল।

তিনি বলেছিলেন যে এ জাতীয় পরিস্থিতিতে বিবেকের কারণে অসুস্থ পাগলটিকে বাজারে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। আমি তার অনাগত সন্তানের কথা ভেবে তাকে বাড়িতে নিয়ে গেলাম।

আমজাদের স্ত্রী ছিকিরন নেশা নামে একজন দিনমজুর বলেছেন যে তাদের পরিবারের অভাব সত্ত্বেও তারা তাকে পরিবারের সদস্যের মতো আচরণ করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার মো। আফসানা পারভীন বলেছিলেন যে, প্রসবের সময় তিনি স্বাভাবিক ছিলেন না বলে তিনি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম দিয়েছিলেন। তবে মা ও নবজাতক দুজনেই স্বাস্থ্যবান।

আবদুল্লাহ আল মাসউদ / আরএআর / এমএস

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]