কৃষকের চোখের সামনে ডুবে যাচ্ছে হাজার বিঘা জমির ধান

কৃষক-3.jpg

‘আমার ৮ বিঘা জমির আউশ ধান আমার চোখের সামনে ডুবে গেল, আমি কেবল তাকিয়ে রইলাম। আর এক সপ্তাহ পরেই ভাতের কান বেরিয়ে আসত। এই আউশ ধান বোরো ধান কাটার পরপরই জমি চাষ করে তৈরি করা হয়েছে। আমি 8 বিঘা জমিতে কমপক্ষে 120 মন ধান পেতাম। দাম এক লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু এই অর্থ বন্যার পানিতে .ুকে পড়ে। ‘বগুড়া জেলার ধুনট উপজেলার উল্লাপাড়া গ্রামের কৃষক হেলাল খান ফোনে এই কথা বলছিলেন। একই গ্রামের কৃষক জয়নাল তালুকদার একই কথা বলেছেন। তার তিন বিঘা ধানও বন্যার পানিতে ডুবে গেছে।

এটি শুধু হেলাল খান এবং জয়নাল তালুকদারকে নিয়ে নয়। বৃষ্টি এবং বন্যায় হাজার হাজার কৃষকের কণ্ঠস্বর এখন আফসোসের এক সুর মাত্র। হেলাল বলল: জলের তলে চলে গেছে। কৃষকরা খুব চিন্তিত। কারণ আউশ ধান ঘরে আসবে মাত্র এক মাস পরে। এই আশায় অনেকে ঘরে বসে ধান বিক্রিও করেছেন। এখন তারা মহা বিপদে পড়েছে। ‘

বৃষ্টিপাত এবং ভারী বৃষ্টির কারণে গত জুন মাস থেকে উত্তরের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল বন্যার কবলে পড়েছে। তবে এবার শুধু নিম্ন অঞ্চলই নয়, জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, সিলেট, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর সহ আরও ১৮ টি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। ফলস্বরূপ, আউশ ধান, পাট, শাকসবজি, বাদাম, তিল ইত্যাদিসহ ফসলগুলি এই অঞ্চলে ডুবে গেছে।

এর আগে কৃষিমন্ত্রী ড। আবদুর রাজ্জাক বলেছিলেন, ‘কিছু আউস জমি বন্যায় ডুবে থাকলেও লক্ষ্য ব্যাহত হবে না। কারণ অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার আউশ ২ লক্ষ হেক্টর বেশি জমিতে আবাদ হয়েছে। ‘

এ প্রসঙ্গে কৃষকরা বলছেন, ‘মন্ত্রীরা তাদের মতোই অ্যাকাউন্ট দেন। তারা সর্বদা নিজের জন্য বাঁচতে চায়। যদি আমরা হিসাব করি তবে ১ 16 টি জেলায় বন্যার পানিতে ডুবে আউশ ধানের পরিমাণ হবে ২ লক্ষ হেক্টর ছাড়িয়ে। ফলস্বরূপ, আউশের লক্ষ্য পূরণ করা হবে না। কিছুদিন আগে তিনি বলেছিলেন, বন্যায় নিম্নাঞ্চলের কয়েকটি ছোট জমি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

২০ জুলাই কৃষিমন্ত্রী বলেছিলেন, “প্রাথমিকভাবে বন্যায় প্রায় ৩৪৯ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে।” ক্ষতি কমাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্যায় আউস, আমন, শাকসবজি ও পাট সহ বহু ফসলের ক্ষতি হয়েছে। বন্যার কারণে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার জন্য বিকল্প বীজতলা তৈরি, ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে বিকল্প ফসল চাষ এবং নিয়মিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ পরিচালনা করার প্রস্তুতি চলছে।

কৃষি মন্ত্রনালয় এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর অতিরিক্ত আউশ উত্পাদন আশা করছে, বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক কৃষকের ধানক্ষেত প্লাবিত হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকে আছেন যারা বাড়িতে এক ফোঁটা ধানও আনতে পারেন না। কারণ তাদের ধান পুরোপুরি বন্যার পানিতে ধ্বংস হয়ে গেছে।

জানা গেছে যে কুড়িগ্রামে বন্যায় ৫,85৫৩ হেক্টর কৃষিজমি ধ্বংস হয়েছে। আমন বীজতলা 435 হেক্টর এবং আউশ 625 হেক্টর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, “বন্যায় ১,69৯২ হেক্টর ফসল ডুবে গেছে।”

কৃষক-3.jpg

গাইবান্ধা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, “জেলার ১৯৮ হেক্টর আউশ ধান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।”

সিরাজগঞ্জ জেলার জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সিরাজগঞ্জে ৫৫ হেক্টর আউশ ধান নষ্ট হয়েছে। এছাড়াও ১,৫০৯ হেক্টর জমির অন্যান্য ফসলও বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে।

জামালপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম জাগো নিউজকে জানান, জেলায় বন্যার পানিতে ২ waters হেক্টর আউশ ধান ডুবে গেছে। এ ছাড়া seed৫ হেক্টর আমন বীজতলাও ডুবে গেছে।

ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট কৃষি মহাপরিচালক ড। মোঃ শাহজাহান কবির জাগো নিউজকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছেন যে এক ইঞ্চি জমি পিছিয়ে রাখা যাবে না। প্রতি ইঞ্চি জমি ব্যবহার করতে হবে। আর্থিক বছরে ১৩ লাখ ৩ thousand হাজার হেক্টর জমিতে আউশ চাষ হয়েছে। ২০২০-২১।এর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ lakh লক্ষ ৫০ হাজার মেট্রিক টন।যে গত বছরের তুলনায় ২ লক্ষ হেক্টর বেশি।বরিশালে পতিত জমিতে যে সব জমি ছিল সেগুলি এখনও চাষ করা যেত না।এবার জমিগুলি হয়েছে আউশ চাষের আওতায় আসুন।কিন্তু আমাদের প্রকৃতির কোনও হাত নেই।আমরা বন্যা, জলোচ্ছ্বাস ও খরা সহ বিভিন্ন বিপর্যয় নিয়ে বাস করি।আর কৃষকরা সরকারের সহায়তায় যে আউশ ফসলের চাষ করেছেন তা বন্যার ফলে ধ্বংস হয়ে গেছে। সরকার তবে পরবর্তী ফসলে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।তবে কৃষিমন্ত্রী সব সুযোগ-সুবিধার কথাও বলেছেন। সেক্ষেত্রে কৃষক তার জন্য ব্যয় করতে সক্ষম হবেন। ‘

এফএইচএস / এফআর / এমএস

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ-বেদনা, সংকট, উদ্বেগের মধ্যে সময় কেটে যাচ্ছে। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]