কোরআন পড়া অবস্থায় আমার স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা করল তারা

নড়াইল

৪৮ ঘন্টা পেরিয়ে গেলেও নড়াইল সদর উপজেলার রাজ্জাক মল্লিক (65৫) হত্যার ঘটনায় কোনও মামলা হয়নি। সোমবার (২ 26 আগস্ট) সন্ধ্যায় কুরআন তেলাওয়াত করার সময় মাগরিবের নামাজের পরে মল্লিককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। রাজ্জাক মল্লিক সদর উপজেলার বাঁশগ্রাম ইউনিয়নের কমল প্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা এবং বাঁশগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের প্রাক্তন সদস্য।

পুলিশ ও স্থানীয়দের মতে, রাজ্জাক মল্লিক সোমবার সন্ধ্যায় বাড়ির পূর্ব পাশের একটি ঘরে মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। তখন তিনি জৈনামাজে বসে কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন। তার স্ত্রী জল আনতে পাশের বাড়িতে গেলেন। দুর্বৃত্তরা ঘরে andুকে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে।

রাজ্জাক মল্লিকের ছেলে রফিকুল বলেন, আমাদের এখানে তিনটি গ্রাম নিয়ে দল রয়েছে। আমার বাবা যেহেতু ওই অঞ্চলে একজন শিক্ষক ছিলেন, একদিকে লোকেরা তাঁর কথা শুনত। সে কারণেই অন্য পক্ষটি এলাকায় একটি হত্যা মামলায় আমাদের বাড়িঘর ভাঙচুর করে। পরে আমরা সেই হত্যা মামলায় অভিযুক্তও হয়েছি। তারা আমার বাবাকে হত্যা করেছে। বাবা তখন কুরআন শরীফ পড়ছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে তিনি জৈনামাজে নিহত হন। আমার ছোট্ট ছেলেটি কয়েকজনকে দেখে ও স্বীকৃতি দিয়েছে। আমি এখন কারও নাম রাখব না। কেস স্টেটমেন্টে প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করব।

নিহত রাজ্জাক মল্লিকের স্ত্রী হাসনা হেনার এক নাতনি রয়েছে।

রাজ্জাক মল্লিকের স্ত্রী হাসনাহেনা বলেছিলেন, আমার স্বামী নামাজের পর প্রতিদিন কোরআন পড়ে। সোমবার সন্ধ্যায় কুরআন তিলাওয়াত করার সময় তার গলা শুকিয়ে গেছে। আমি তার জন্য প্রতিবেশী গিয়াসের বাড়ি থেকে জল আনতে গিয়েছিলাম। কিছুক্ষণ পরে, আমার নাতি (7) ছুটে এসে আমাকে বলেছিল যে তারা আমার দাদাকে হ্যাক করছে। আমি চিৎকার করে বাড়িতে এসে দেখলাম সব শেষ হয়ে গেছে।

হাসনাহেনা আরও বলেছিলেন, “আমার দুই পুত্র গ্রামে দলভেদবাদের কারণে গৃহহীন।” গ্রামে একটি হত্যার পরে আমার বাড়িটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল এবং বিরোধীদের লোকেরা ছেলেদের নামে মামলা দায়ের করেছিল। তারা আমার স্বামীকে কুরআন পড়ার সময় কুপিয়ে হত্যা করেছে। তারা আমাদের বিরোধী।

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যায় রাজ্জাক মল্লিকের বড় ছেলে রবিউল মল্লিক, কমল প্রতাপ গ্রামের রশিদ মল্লিকের ছেলে নাজমুল হোসেন এবং আমদগ্রামের অহিদার খানের ছেলে নাচ খানকে বুধবার সন্ধ্যায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তারা এখনও পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো। ইলিয়াস হোসেন জানান, হত্যার অভিযোগে রাজ্জাক মল্লিকের বড় ছেলেসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। এখনও মামলা করা হয়নি। তদন্তের আগে কিছুই বলা যায় না।

হাফিজুল নীলু / এএম / পিআর