জামিনের পর অভিভাবকের জিম্মায় সেই চার শিশু

বরিশাল -২

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ধর্ষণের অভিযোগে চার শিশুকে গ্রেপ্তার করে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণ করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে কৌতুহলী জনতা সকাল থেকেই চার বাচ্চার বাড়িতে ভিড় করছেন।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রংশ্রী ইউনিয়নের রুনশি গ্রামের যশোর থেকে শিশুদের একটি মাইক্রোবাসে তাদের বাড়িতে আনা হয়। এরপরে চার ছেলেমেয়েকে তাদের পিতামাতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই সময়ে, বাবা-মা সন্তানদের ফিরে পেয়ে সংবেদনশীল হয়ে পড়ে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে বাকেরগঞ্জ থানায় এক স্থানীয় ব্যক্তি চার শিশুটির বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

মামলায় এই ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন যে রবিবার বিকেলে খেলার কথা বলার সময় তার year বছরের মেয়েকে বাড়ির পাশের বাগানে ধর্ষণ করা হয়েছিল। এক শিশু তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। আরও তিন শিশু ধর্ষণে সহায়তা করেছিল।

সোমবার রাতে তার মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকালে তাকে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরে ওই রাতেই ওই ব্যক্তি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ওই রাতেই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত চার শিশুকে আটক করে। বুধবার বিকেলে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো। এনায়েতউল্লাহ চার সন্তানকে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রেরণের নির্দেশনা দিয়েছেন।

মামলার জবানবন্দিতে বাদী চার আসামির বয়স দশ থেকে ১১ বছর বলে উল্লেখ করেছেন। তবে স্থানীয় একাধিক স্থানীয় জানিয়েছেন, অভিযুক্ত চার শিশু আট থেকে নয় বছরের বেশি বয়সী হবে না।

গণমাধ্যমে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আসে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাত ৯ টার পর হাইকোর্টের বিচারপতি মো। বিচারপতি মোজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মহিউদ্দিন শামীমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে চার শিশুকে একটি মাইক্রোবাসে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত হওয়ার নির্দেশ দেয় এবং বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে তাদের বাবা-মায়ের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট বরিশালের সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছেন। পরের রবিবার (১১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে এগারটায় তাকে ব্যক্তিগতভাবে হাজির হতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) চার শিশু ও তাদের অভিভাবকসহ একই তারিখে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। আদালত বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালককেও রবিবার হাইকোর্টের এই বেঞ্চে ভুক্তভোগী শিশু ধর্ষণের বিষয়ে একটি মেডিকেল রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।

বরিশাল -২

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিশেষ কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুর রহমান বলেছেন, হাইকোর্টের সমস্ত নির্দেশনা বরিশাল কিশোর আদালতের বিচারক, জেলা প্রশাসক, যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং বাকেরগঞ্জ ওসি মো। । আদেশ পাওয়ার পরে বরিশাল শিশু আদালত একই রাতে চার সন্তানের জামিন মঞ্জুর করে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাধবী রায় জানান, সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার রংশ্রী ইউনিয়নের রুনশি গ্রামে চার শিশুকে তাদের মাইক্রোবাসে যশোর থেকে আনা হয়েছিল। এরপরে তাদের বাবা-মার হাতে সোপর্দ করা হয়।

বাচ্চাদের বাবা-মা বলেছিলেন, আমরা বাচ্চাদের ফিরে পেয়ে অসম্ভব খুশি। বাচ্চাদের কথা ভেবে তিন দিন নিদ্রাহীন রাত কাটান। আমি কখনই ভাবিনি যে এত তাড়াতাড়ি তাদের বন্দীদশা থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। তাদের ফিরিয়ে পাওয়ার অনুভূতি কথায় প্রকাশ করা যায় না।

সাইফ আমিন / এফএ / পিআর

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। সময় আনন্দ এবং দুঃখে, সঙ্কটে, উদ্বেগে কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]