জোটে আছে ভোটে নেই

jagonews24

২০ দলীয় জোটের সাথে বিএনপির দূরত্ব ইতিমধ্যে প্রকাশিত হচ্ছিল। তাদের সাথে নিয়ে বিএনপি জাতীয় Frontক্যফ্রন্ট নামে আরেকটি জোট গঠন করে ৩০ শে ডিসেম্বর, ২০১ 2016 তারিখে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গিয়েছিল। কিন্তু ড। জোটটি কামাল হোসেন, আ স ম আবদুর রব, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মাহমুদুর রহমানের মতো নেতাদের নিয়ে গঠিত। মান্নাও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে এবং এখন বিএনপি অনেক ইস্যুতে যুক্তফ্রন্টের পাশে পাচ্ছে না। আবারও তারা ২০ দলকে একপাশে রেখে unitedক্যফ্রন্ট গঠন করেছিল, তাই পুরানো জোটের কয়েকটি দল একত্রিত হয়ে ‘জাতীয় মুক্তিমঞ্চ’ নামে একটি নতুন প্ল্যাটফর্ম গঠন করেছিল।

এ জাতীয় জটিলতার মধ্যেও বিএনপি এখন ‘একা একা চলি’ নীতি গ্রহণ করেছে বলে মনে হচ্ছে। জোটের শরিকদের সাথে কোনও আলোচনা না করে একা একা বিভিন্ন সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়া সহ অনেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা। বিএনপির ‘চলুন একা একা থাকুন’ নীতির রক্ষায় দলীয় নেতারা আরও বলেছিলেন, জোটটি নির্বাচনের জন্য নয়, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে ছিল। এক্ষেত্রে জোটের শরিকদের পরিস্থিতি এখন- ‘জোট আছে, ভোট নেই’।

বিএনপি ও তার দুটি জোট Oক্যফ্রন্ট এবং ২০ টি দলের নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পরবর্তী নির্বাচনে বিএনপির বিভিন্ন সিদ্ধান্তে দুটি জোটের দৃষ্টিভঙ্গি উপেক্ষা করা হয়েছে। বিএনপিও শেষের পাঁচটি সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে তার আগে প্রতিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

৩০ শে ডিসেম্বর নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে বিএনপি আবার চার জন বিজয়ীকে সংসদে প্রেরণ করেছে। আবার বিএনপি কেন জোটের মতামত ব্যতীত উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে তা নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে, যদিও তারা এই অধিবেশনকে অবৈধ বলে তাদের অধীনে যে কোনও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিরোধিতা করছে।

কামাল হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় ityক্যফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল, তবে এই জোট এখন অনেকাংশে অকার্যকর।

এই দুই জোটের কয়েকজন নেতা বলেছিলেন যে ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের পরে জোটের দ্বারা নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়েছিল। সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যে বিজয়ীদের শপথ করা হবে না। তবে জোটের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করার পরে বিএনপি এককভাবে তার চারটি সংসদ সদস্যকে শপথ করে সংসদে প্রেরণ করেছে। ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) এই বিষয়ে ২০ দলীয় জোট ছেড়েছে। এবং বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বে কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ জাতীয় Unক্যফ্রন্ট ছেড়ে যায়।

নেতারা বলেছিলেন, এতো নাটক করার পরে একক সিদ্ধান্ত নিয়ে উপনির্বাচনে বিএনপির অংশ নেওয়া দুই জোটে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। বিএনপির তৃণমূল নিজেই অত্যন্ত হতাশ যে তারা এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তৃণমূল নেতাদের মতে, ৩০ শে ডিসেম্বরের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে এবং formed নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদে যোগদানের মাধ্যমে বিএনপি স্ববিরোধী পদ্ধতিতে কাজ করেছে। এরপরে মিত্রদের মতামত না নিয়েই এই সরকারের অধীনে উপনির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি সরকারকে বৈধতা দিচ্ছে।

তবে বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিশ্বে জামায়াত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণার কারণে দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার বিষয়টি তুলে ধরতে বিএনপি একাই এই উপনির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। জামায়াতের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য বিদেশি বন্ধুদের বার্তা দিতে চায় বিএনপি।

এই দুই জোটের নেতারা বিএনপির সমালোচনা করে বলেছেন যে তারা উপনির্বাচনে অংশ নেবে, সংসদে যাবে এবং সরকারী সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে এবং সরকারকে অবৈধ বলে অভিহিত করবে। এ জাতীয় দ্বিগুণটি বিএনপিকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। যার দাম ভবিষ্যতের রাজনীতিতে দিতে হবে। তদুপরি, যদি উপনির্বাচনে অংশ নিতে চান, বিএনপির প্রার্থীদের মনোনয়নের আগে কমপক্ষে জোটের নেতাদের সাথে পরামর্শ করা উচিত ছিল, যাতে সবাই ব্যালটে থাকে। তা না করার ফলস্বরূপ দুই জোটের দল বিএনপিকে মাঠে একা থাকতে হবে।

jagonews24একসময় বিএনপি ২০ দলীয় জোটের শরিকদের নিয়ে বসে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেত, এখন তারা ‘একা একা যান’ নীতি অনুসরণ করছে বলে মনে হয়।

উপনির্বাচনে বিএনপির একমাত্র অংশগ্রহণ সম্পর্কে জানতে চাইলে ২০ দলীয় জোট বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সৈয়দ এহসানুল হুদা জাগো নিউজকে বলেন, “জোট আছে কি না, তা সন্দেহজনক!” জোটের অনেক নেতা ইতোমধ্যে এই বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেছেন। বিগত ২০-দলীয় জোটে গত উপনির্বাচনের বিষয়ে এবং উপনির্বাচনের আপ ফ্রন্ট নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। এর জন্য বিএনপিই দায়বদ্ধ।

তিনি বলেন, আমি মনে করি প্রার্থী মনোনয়নের আগে বিএনপির জোটের নেতাদের সাথে আলোচনা করা উচিত ছিল। পরিবর্তে তারা গণমাধ্যমে বলছেন, জোট তাদের সাথে রয়েছে। আমি তাদের বক্তব্যের সাথে একমত নই। কারণ তারা নিজেরাই প্রার্থী দেবে এবং আমরা তাদের সাথে মাঠে কাজ করব, এমনটা হতে পারে না। সমঝোতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত পৌঁছতে পারলে আমি মাঠে থাকতাম। ‘

জাতীয় ityক্যফ্রন্টের অংশীদার নাগরিক ityক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, “বিএনপি এই উপনির্বাচনে একা অংশ নিচ্ছে। তবে এতে অংশ নেওয়া বিএনপির পাশাপাশি জনগণের পক্ষে লাভ করবে না। এমনকি বিএনপিও এর মাধ্যমে ২-১ টি আসন জিতেছে, জনগণ কিছুই পাবে না। ‘

জোট ছাড়াই নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জোটটি নির্বাচন নয়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনের জন্য গঠিত হয়েছিল।

কেএইচ / এইচএ / এমএআর / এমকেএইচ

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]