টাঙ্গাইলে বন্যায় ভেঙে পড়ছে একের পর এক ব্রিজ

jagonews24

টাঙ্গাইলের বন্যার পরিস্থিতি ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। বন্যার দ্বিতীয় পর্যায়ে জেলার স্থায়ী নদী সুরক্ষা কাজের পাশাপাশি একের পর এক ব্রিজ ধ্বংস হচ্ছে। ফলস্বরূপ, শহরটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্যাকবলিত অঞ্চলে গবাদি পশুদের খাবার, পরিষ্কার জল এবং শুকনো খাবারের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।

গত 12 ঘন্টা, যমুনা নদীর জলের স্তর 7 সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে এবং বিপদের স্তর থেকে 63 সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও কমেনি জেলার ধলেশ্বর, ঝিনাই সহ অন্যান্য নদীর পানি। ফলস্বরূপ, টাঙ্গাইলের ফসলি জমি, রাস্তাঘাট এবং হাটবাজার ধুয়ে গেছে। পানির স্তর বাড়ার কারণে হাজার হাজার মানুষ বন্যার্ত ক্ষতিগ্রস্থ ভুনাপুর, কালিহাতী, টাঙ্গাইল সদর ও নগরপুরে অমানবিক পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছে। তারপরেও অভিযোগ রয়েছে যে এই বনবাসী সরকারী-বেসরকারী ত্রাণ পাননি।

তবে টাঙ্গাইল জেলা ত্রাণ দফতর সূত্রে জানা গেছে, বনবাসীদের মধ্যে ৪০০ এমটি চাল এবং নগদ 6 লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া বন্যার্তদের মাঝে দুই লাখ টাকার বাচ্চার খাবার বরাদ্দসহ ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নিশ্চিত করেছেন যে গত 12 ঘন্টা যমুনা নদীর জলের স্তর 8 সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার 73 সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। সিরাজুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বাসাইল উপজেলার ছোঁকা পাড়া সেতু বন্যার পানিতে ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে বাসাইল উপজেলা সদর থেকে কাঞ্চনপুর ইউনিয়ন সড়ক বন্ধ রয়েছে। কাঞ্চনপুর দক্ষিণপাড়া, ছাঁকাপাড়া, কাজিরাপাড়া, কোদালিয়াপাড়া, ফতেহপুর, বাসাইলের পাটদিঘি ও মির্জাপুর উপজেলার প্রায় ৩০ টি গ্রামের মানুষ এতে ভোগান্তিতে পড়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) সন্ধ্যায় চৌহালী-আরিচা রোড উপজেলার সালিমাবাদ ইউনিয়নের তেবাড়িয়ায় বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়েছে। এ ছাড়া নগরপুর শাহাজানি রোডের বনগ্রামে পাকা রাস্তায় পানি বাড়ার কারণে সংলগ্ন চৌহালী উপজেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

jagonews24

অন্যদিকে, পানির স্তর বাড়তে থাকায় ভুনাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফুটো হয়েছে। উপজেলার তারাই এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধ সড়কও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তবে জল উন্নয়ন বোর্ড প্রাথমিকভাবে জিও ব্যাগটি সংস্কার করছে। এ ছাড়া নিম্নাঞ্চলে জলের অনুপ্রবেশের কারণে কয়েকটি অঞ্চলের অবরুদ্ধ রাস্তা ভেঙে গেছে। উপজেলার গোবিন্দাসী-ভালকুটিয়া সড়কের চারটি অংশ ভাঙার কারণে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

এর আগে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে কালিহাতী উপজেলার গোহালিবাড়ী ইউনিয়নের বেলতিয়া উত্তরপাড়ার বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব রক্ষাবন্ধ এলাকার দ্বিতীয় বাঁধ দিয়ে ২৩ টি ঘর পুড়ে যায়।

একই রাতে টাঙ্গাইলের নগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত স্থায়ী প্রতিরক্ষা প্রকল্পের তিনটি স্থান ভেঙে পড়ে এবং বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়।

jagonews24

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি), বাসাইলের উপ-সহকারী প্রকৌশলী সাজেদুল আলম জানান, কেয়ার বাংলাদেশের অধীনে ১৯৯ 1992-৯৩ সালে সাড়ে ১১ মিটার সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। ব্রিজটি ইতিমধ্যে ঝুঁকিতে ছিল। এ কারণে পানির প্রবাহের কারণে এটি ধসে পড়েছে। সেতুটি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে ইতিমধ্যে একটি নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপথ বিভাগের (আরএইচডি) উপ-সহকারী প্রকৌশলী আবদুর রহমান জানান, এটি ছিল সড়ক ও জনপথের (আরএইচডি) একটি রাস্তা। বেইলি ব্রিজের ধসের কথা শুনে আমরা তাড়াতাড়ি পরিদর্শন করলাম। পরের দু’দিনে সেতুটি মেরামত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি।

এই প্রসঙ্গে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো। সিরাজুল ইসলাম জানান, পানির স্তর বাড়তে থাকায় ভুনাপুর-তারাকান্দি সড়কের বেশ কয়েকটি স্থানে ফুটোসহ জিও-ব্যাগ নিক্ষেপ করে তারাই অঞ্চল জল উন্নয়ন বোর্ডের ক্ষতিগ্রস্থ বাঁধের রাস্তাটি প্রাথমিকভাবে মেরামত করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেছিলেন, নগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ মেরামত করা সম্ভব হয়নি, যতক্ষণ না পানি সরে যায়।

আরিফ উর রহমান টগর / এমএএস / এমকেএইচ