তার বিদায়ে কাঁদছে বাংলাদেশও

pronob-mukherjee-04.jpg

প্রবাসী বন্ধুরা। তবে, আপনার চেয়ে আপনার বেশি। সীমানা, কাঁটাগাছ তার প্রেমের দরজা বন্ধ করতে পারেনি। দেশভাগের দুঃখ থেকেও বাঙালির মুক্তির মাঠে বাংলাদেশ ছিল একটি সজাগ নজরদারি।

প্রণব মুখার্জি। তার প্রয়াণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমি বাংলাদেশের একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে হারিয়েছি।”

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সহকর্মী ড। কামাল হোসেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। স্মরণে ড। কামাল বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে ভারতে আমি যে মানুষকে সবচেয়ে বেশি খুশি দেখেছি সে হলেন প্রণব মুখোপাধ্যায়। এমনকি তিনি ইন্দিরা গান্ধীকে বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি অবস্থান গ্রহণে প্ররোচিত করার ক্ষমতাও অর্জন করেছিলেন। অনেকবার দেখা হয়েছে। তাঁর সাথে প্রচুর স্মৃতি। কখনও বিদেশী বোধ করেনি। তাকে যেতে দেখে আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ হয়। ‘

1971. পাকিস্তান ভাঙার ঘণ্টা বাজে। বাঙালিরা মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের রাজনৈতিক বন্দী। স্বাধীন বাংলার অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়েছিল প্রবাসে। প্রণব মুখোপাধ্যায় তখনও ইন্দিরা গান্ধীর দল কংগ্রেসে যোগ দেননি। তিনি বেঙ্গল কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যসভার প্রতিনিধি।

তার পর থেকেই তার বাংলাদেশের বন্ধুত্ব। যদিও বাংলাদেশের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক আরও আগের। তবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সূচনা থেকেই রাজনৈতিক সম্পর্ক চলছে।

প্রণব মুখার্জি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের আত্মজীবনীমূলক সিরিজ, দ্য নাটকীয় দশক: ইন্দিরা গান্ধী ইয়ার্সের প্রথমটিতে তিনি ‘মুক্তিযুদ্ধ: দ্য মেকিং অব বাংলাদেশের’ শীর্ষক একটি পুরো অধ্যায় লিখেছিলেন।

বইটিতে প্রণব মুখোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘১৫ ই জুনের বাজেট অধিবেশন চলাকালীন আমি রাজ্যসভায় বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিই নি। আমি বলেছিলাম যে ভারতের প্রবাসী মুজিবনগর সরকারকে অবিলম্বে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। এই সমস্যাটি কীভাবে সমাধান করা যায় তা একজন সদস্য জানতে চান। উত্তরে আমি বলেছিলাম যে একটি গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিয়েই রাজনৈতিক সমাধান সম্ভব। রাজনৈতিক সমাধানের অর্থ গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম বাংলাদেশকে বস্তুগত সহায়তা প্রদান। আমি সংসদকে মনে করিয়ে দিয়েছিলাম যে এই জাতীয় ঘটনায় হস্তক্ষেপের বিশ্ব ইতিহাসে অনেক উদাহরণ রয়েছে। “

মূলত, ভারতের রাজ্যসভায় প্রণব মুখোপাধ্যায়ই প্রথম প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। এর মধ্য দিয়েই ইন্দিরা গান্ধীর সাথে তাঁর রাজনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

প্রণব মুখোপাধ্যায় তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, ‘সেই সময় থেকেই ইন্দিরা গান্ধী আমাকে গুরুত্ব দেওয়া শুরু করেছিলেন। একাত্তরের সেপ্টেম্বরে, প্রথম আন্ত: সংসদীয় ইউনিয়ন সভায় আমি ভারতীয় প্রতিনিধি দলের সদস্য হিসাবে মনোনীত হয়েছিলাম। সেই বৈঠকে আমাদের কাজটি ছিল প্রতিটি দেশের প্রতিনিধিদের কাছে বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং ভারতের অবস্থান সম্পর্কে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করা, যাতে তারা নিজ নিজ দেশে ফিরে এসে তাদের নিজ নিজ সরকারকে অবহিত করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সেই বৈঠকে আমার ভূমিকা সম্পর্কে শুনেছেন এবং তিনি খুশি হয়েছেন। কারণ তখন তিনি আমাকে একই দায়িত্ব নিয়ে ইংল্যান্ড এবং জার্মানিতে প্রেরণ করেছিলেন। ‘

pronob-mukherjee-04.jpg

প্রণব মুখার্জি ইন্দিরা গান্ধীর সাথে

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। সরকারে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো। “প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সাথে আমাদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পারিবারিক এবং বৈবাহিক সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে,” তিনি বলেছিলেন। তবে রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। আমরা বিশেষত বহুবার বঙ্গবন্ধু পরিবারের প্রতি তাঁর সমবেদনা প্রমাণ পেয়েছি। ১৯ 197৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানাকে যেভাবে আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল এবং সহায়তা করেছিলেন, আমরা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করব। ‘

তিনি বলেছিলেন, ‘সহানুভূতির রাজনীতি হ’ল এর উজ্জ্বল তারকা প্রণব মুখার্জি। এমনকি অনেক বিভাজনের মাঝেও তিনি আমাদের আস্থার জায়গা। তার ক্ষতি কোনওভাবেই ক্ষতিপূরণ পাওয়ার মতো নয়। আমি তাকে প্রতি মুহুর্তে মিস করব। প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সাথে কেবল প্রণব মুখার্জিকেই তুলনা করা যায়। ‘

pronob-mukherjee-04.jpg

কামাল হোসেন, আমির হোসেন আমু, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী

প্রণব মুখার্জি রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং দায়িত্ব প্রশ্নে বাংলাদেশের প্রতিটি সমালোচনামূলক মুহুর্তে উদারতা প্রদর্শন করেছেন। ১৯ 1971৫ সালে বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবার হত্যার পরে যেমন তিনি ১৯ 1971১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা রেখেছিলেন, শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহনা আশ্রয় নিয়েছিলেন এবং বন্ধুত্ব এবং প্রেমের চূড়ান্ত চিহ্ন রেখেছিলেন। একইভাবে, বাংলাদেশে বিপর্যয়ের সময় তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ২০০ Bangladesh সালে দক্ষিণ বাংলাদেশের সিডরের সময় ভারত সরকারের সহায়তায় প্রণব মুখোপাধ্যায় ভূমিকা পালন করেছিলেন।

আমির হোসেন আমু, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য মো। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে প্রবীণ এই রাজনীতিবিদ বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশের এক অনুগত বন্ধুকে হারিয়েছি। প্রণব মুখার্জি ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিবারের সত্যিকারের বন্ধু। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে প্রণব মুখার্জি তাঁর দুই মেয়েকে হেফাজতে রেখেছিলেন।”

আমু বলেছিলেন, ‘ভারত আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সাথে ভারতের সম্পর্ক রক্ত। প্রণব মুখোপাধ্যায় এমন কয়েকজন লোক যারা এই সম্পর্ক নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। বাঙালি হিসাবে আমরা তাঁর debtণ কখনই ভুলব না। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের মানুষের সত্যিকারের বন্ধু। ‘

এএসএস / এমএআর / এমএস

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ-বেদনা, সংকট, উদ্বেগের মধ্যে সময় কেটে যাচ্ছে। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]