দুই ছেলেকে নিয়ে ইউপি সদস্যকে পেটালেন চেয়ারম্যান

jagonews24

যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ এবং তার দুই ছেলে মাদকের পাচার ও অর্থ পাচারের অভিযোগে ইউপি সদস্যকে মারধর করেছেন।

স্থানীয়রা গুরুতর আহত ইউপি সদস্য বাবুল হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রেরণ করলেও তারা তাকে তা করতে দেয়নি। পরে তাকে উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতারা উদ্ধার করে যশোর কুইন হাসপাতালে ভর্তি করেন।

স্থানীয়রা জানান, গোগা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রশিদ নিজেই চাঁদাবাজি, লুটপাট ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন না, তার ছেলে সম্রাট হোসেনও বিভিন্ন অপকর্মে জড়িত ছিলেন। এত কিছুর কারণে মঙ্গলবার গোগা বাজারে এই ঘটনা ঘটে।

যদিও বাবুল মেম্বারের অপকর্মের জন্য অর্থ বিতরণের বিষয়ে চেয়ারম্যানের পুত্র সম্রাট হোসেনের সাথে রশিদের সম্পর্ক থাকলেও সম্রাট হোসেনের ফেনসিডিলের চালান জব্দ করার কারণে দুজনের মধ্যে সমস্যা হয়েছিল। ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের হরিশচন্দ্রপুর গ্রামে সালিশি ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন উত্স থেকে নেওয়া অর্থ বাবুল ও সম্রাটের মধ্যে ভাগ ছিল। গ্রামবাসীরা এই সমস্ত অপকর্মে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুলের বিরুদ্ধে চেয়ারম্যান রশিদের কাছে অভিযোগ করেও সম্রাটের বিরুদ্ধে কিছু বলেনি।

অভিযোগ পাওয়ার পরে রশিদ চেয়ারম্যান বাবুলকে বিভিন্ন উপায়ে নেওয়া এক লাখ ৮৪ হাজার টাকা ফেরত দিতে বলেন। এসময় বাবুল সদস্য এই অপকর্মের সাথে সম্রাটের জড়িত থাকার কথাও জানালেন। পরে চাপের মুখে তিনি বলেছিলেন যে তিনি এক লাখ টাকা ফেরত দেবেন এবং বাকি টাকা পরে দেবেন।

এদিকে নির্বাচনের আগে রশিদ চেয়ারম্যান বাবুল সদস্যের কাছ থেকে ১২০,০০০ টাকা .ণ নিয়েছিলেন। বাবুল সদস্যরা সেই টাকা ফেরত চান। এমনকি স্থানীয় সাংসদ শেখ আফিল উদ্দীকেও এই অর্থের কথা জানান।

এমপি রশিদ চেয়ারম্যানকে টাকা ফেরত দিতে বলেছিলেন। এরপরে রশিদ রেগে গিয়ে বাবুলের সাথে তর্ক শুরু করে। এক পর্যায়ে তিনি ছেলে সম্রাটকে তার মোবাইল ফোনে বাজারে আসতে বলেছিলেন। সম্রাট তার অন্য ভাই সুমন হোসেনসহ আরও কয়েকজনকে নিয়ে বাজারে আসেন।

এরপরে রশিদ চেয়ারম্যান নিজেই কয়েকশ লোকের সামনে বাবুল সদস্যকে চড় মারেন এবং লাথি মারতে শুরু করেন। চেয়ারম্যানের ছেলে সম্রাট ও সুমনও তাদের সহযোগীদের নিয়ে আক্রমণ চালায়।

ঘটনাটি জানতে পেরে শার্শা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন।

গোগা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, ইউপি সদস্য তবিবর রহমান ও স্থানীয় লুৎফর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, রশিদের ছেলে সম্রাট একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। শার্শা থানায় তার নামে মাদক ব্যবসায়ের মামলাও রয়েছে।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান আবদুর রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছে, তবে আমরা পরিষদে এটি নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করছি।

শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বদরুল আলম বলেন, আমরা এখনও কোনও অভিযোগ পাইনি। কোনও অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জামাল হোসেন / এফএ / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। সময় আনন্দ এবং দুঃখে, সঙ্কটে, উদ্বেগে কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]