নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ১০ কোটি টাকার নকল ওষুধ

barishal-Pharmaceutical-2

বরিশাল নগরীর আবাসিক এলাকার একটি বাসায় স্থাপন করা হয়েছে ওষুধ তৈরির কারখানা। এসিআই, গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালস, কেমিস্ট, জেনারেল, জেসনসহ অন্তত আট খ্যাতনামা ওষুধ কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করা হতো এই কারখানায় তৈরি ওষুধ। সেই সঙ্গে এই কারখানায় তৈরি হতো নকল প্রসাধনী। পরে তা কোহিনূরসহ বিভিন্ন কোম্পানির মোড়কে বাজারজাত করা হতো।

সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে নকল ওষুধ তৈরির এই কারখানার সন্ধান পান বরিশাল জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। নগরীর সাগরদী দরগাহ বাড়ি এলাকার হদুয়া লজ-২ নামের ওই বাড়িতে কারখানা স্থাপন করে দীর্ঘদিন ধরে নকল ও ভেজাল ওষুধ এবং প্রসাধনী তৈরি করে আসছিল একটি অসাধু চক্র।

দুপুরে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০ কোটি টাকার নকল ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করেন। নকল ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে জড়িত থাকায় কারখানার দুইজনকে আটক করে এক বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

একই সঙ্গে দুইজনের প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা করে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কারখানাটি সিলগালা করে দেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কারখানার প্রধান পরিচালক মাসুম বিল্লাহ (২৭) ও তার সহযোগী নুরে আলম গাজী (২৩)।

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, নকল ওষুধ তৈরি করে লঞ্চে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে- এমন তথ্যের ভিত্তিতে দুপুরে বরিশাল নদীবন্দর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে গিয়ে দেখা যায় কেমিস্ট কোম্পানির লোগোযুক্ত কাগজের কার্টন ঢাকায় পাঠানোর জন্য জড়ো করা হচ্ছে।

এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মাসুম বিল্লাহ। তাকে জিজ্ঞাস করা হলে নকল কারখানার সন্ধান পাওয়া যায়। পরে বরিশালের ড্রাগ সুপারকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সহায়তায় নগরীর সাগরদী দরগাহ বাড়ি এলাকার কারখানায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে প্রায় ১০ কোটি টাকার নকল ওষুধ, ওষুধ তৈরির কাঁচামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। তার মধ্যে কিছু প্রসাধনীও ছিল।

barishal-Pharmaceutical

এ সময় নকল ওষুধ তৈরি ও বিপণনের দায়ে কারখানার প্রধান পরিচালক মাসুম বিল্লাহ ও তার সহযোগী নুরে আলম গাজীকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে আড়াই লাখ টাকা করে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. জিয়াউর রহমান বলেন, কারখানার প্রধান পরিচালক মাসুম বিল্লাহ ওই বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলামের ভাগিনা। সাইফুল ইসলাম ঢাকার ওষুধ ব্যবসায়ী। সাইফুল ইসলাম ঢাকার বাবু বাজারে ওষুধের ব্যবসা করেন। বরিশালে তার বাড়িতে উৎপাদিত এসব নকল ওষুধে খ্যাতনামা বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির মোড়ক লাগিয়ে ঢাকায় তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পাঠানো হতো। সেখান থেকে ওই ওষুধ সারা দেশে বিপণন করা হতো। জব্দ করা নকল ওষুধ বিকেলে কীর্তণখোলা নদীর তীরসংলগ্ন রসুলপুর চরে নিয়ে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

সাইফ আমীন/এএম/পিআর

.