বন্যার পানির নিচে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক

jagonews24

এক সপ্তাহ অব্যাহত বৃষ্টিপাত এবং বর্ষার জেরে শেরপুরের নিম্নাঞ্চলগুলি জলে ডুবে গেছে। শেরপুরের ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি শনিবার (১৮ জুলাই) মধ্যরাত থেকে দুই সেন্টিমিটার বিপদ বয়ে চলেছে। নতুন নতুন গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে জেলার ৫০ টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। পানিতে আটকে রয়েছে প্রায় ২০,০০০ মানুষ। বন্যার কারণে শেরপুর-জামালপুর মহাসড়ক ডুবে গেছে এবং উত্তর অঞ্চলের সাথে সব ধরণের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও কৃষকদের লাগানো বীজতলা ও সবজি ক্ষেত বন্যায় ডুবে গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরপুর-জামালপুর মহাসড়কের ডাইভারশন শপের বেইলি ব্রিজের দক্ষিণ পাশে ভূমিধসের কারণে জামালপুর ও উত্তর অঞ্চলের সাথে সব ধরণের যান চলাচল তিন দিনের জন্য বন্ধ রয়েছে। তবে বিকল্প রাস্তা হিসাবে ছোট গাড়িগুলি বালাই চরে চলাচল করছে তবে বড় যানবাহন চলাচল করতে দেওয়া হচ্ছে না। রবিবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি দুই সেন্টিমিটার বিপদ বয়ে চলেছে।

ব্রহ্মপুত্রের জলের জলের ফলে শেরপুর সদরের সাতটি ইউনিয়নের নতুন অঞ্চল, পৌরসভার কিছু অংশ এবং নকলা উপজেলার দুটি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় এ পর্যন্ত ৫০ টি গ্রামের নিচু অঞ্চল ডুবে গেছে। পানিতে আটকে রয়েছে প্রায় ২০,০০০ মানুষ। তাদের এখন নৌকা বা কলার ভেলা দিয়ে ভ্রমণ করতে হবে। চরপক্ষিমারী ইউনিয়নের কুলুরচর-বেপারিপাড়া সহ আশেপাশের অঞ্চলের বন্যার শিকার তাদের বাড়িতে প্রবেশের কারণে বন্যার পানির কারণে গবাদি পশু নিয়ে আশেপাশের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

তারা অভিযোগ করেছেন যে বিদ্যালয়ে আশ্রয় নেওয়া সত্ত্বেও শুকনো খাবার, পরিষ্কার জল এবং গবাদি পশুদের খাওয়ার ঘাটতি রয়েছে। এলাকার বাসিন্দারা এক সপ্তাহ ধরে আটকে থাকলেও এখনও স্বস্তি পাননি।

jagonews24

কামার চর ইউনিয়নের No. নং চরের বাসিন্দা আফজাল মিয়া, রবিউল মিয়া ও লাল মিয়া সহ অনেকেই বলেছিলেন, “আমরা অনেক বিপদে আছি। আমাদের এলাকায় এখনও কোনও সরকারী ত্রাণ আসে নি। আমাদের বাড়ি প্লাবিত। আমরা পারব। ‘ বাড়ি থেকে বেরোতে হবে না আমি বাসায় শুকনো খাবার খেয়ে বেঁচে আছি। রান্না করতে পারছি না।

জেলা ফার্ম হাউসের উপপরিচালক মোহিত কুমার দে জানান, এ বছর বন্যায় জেলার ৩ 336 হেক্টর বীজতলা এবং ৪৮ হেক্টর সবজির ক্ষেত ডুবে গেছে। তিন-চার দিনের মধ্যে পানি বের না হলে কৃষকদের বড় ক্ষতি হবে। জল দ্রুত কমে গেলে বড় কোনও ক্ষতি হবে না।

শেরপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সামগ্রিক) ওয়ালিউল হাসান বলেছেন, শেরপুর জেলায় বন্যার্তদের জন্য এখন পর্যন্ত নগদ অর্থের আড়াই লক্ষ টাকা এবং দেড়শ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। যা পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে।

এএম / এমকেএইচ