বানের পানির সঙ্গে টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত ফরিদপুরের বন্যার্তরা

jagonews24

প্রবল বৃষ্টিপাতে ফরিদপুরের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। দু’দিন টানা বৃষ্টিপাত বন্যার্তদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছে। বন্যার পানিতে তাদের বাড়িঘর ভেসে যাওয়ার কারণে তারা রাস্তা ও বাঁধগুলিতে দিন কাটাচ্ছেন এবং বৃষ্টির কারণে নতুন নতুন দুর্ভোগ যুক্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে ফরিদপুরে বন্যার পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে। গত ২৪ ঘন্টা ফরিদপুরে পদ্মার জল বিপদসীমা থেকে ১১৯ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হয়েছে। জেলার ৫৪১ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। জেলায় দেড় লাখের বেশি মানুষ আটকা পড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন অঞ্চলে পানি প্রবেশ করছে।

এদিকে, সোমবার (২ July জুলাই) বিকেল চারটার দিকে ফরিদপুর শাহরক্ষা বাঁধটি ৪৫ মিটার অংশ ভেঙে আবার ভেঙে পড়ে। বাঁধের সেই ভাঙা অংশ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গরু-খাদ্যের তীব্র ঘাটতি রয়েছে। কোরবানির পশুর জন্য অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োজন needed কোরবানির পশুও ন্যূনতম খাবার পাচ্ছে না, বাড়তি খাবার ছেড়ে দিন। খড়কে ডুবিয়ে ধ্বংস করা হচ্ছে, মাঠের ঘাসও ডুবে গেছে। বন্যার ক্ষতিগ্রস্থরা সঠিকভাবে খাওয়াতে না পারায় গরু নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন।

jagonews24

সাদিপুর শাহরক্ষা বাঁধে আশ্রয় নেওয়া গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেছিলেন, “আমার বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়ার কারণে আমি রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছিলাম। আমি একরকম বিভিন্ন দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে বেঁচে আছি। গত দু’দিনের বৃষ্টিতে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। আমি পলিথিন দিয়ে ভাত তৈরি করি এবং সেখানেই থাকি। পলিথিন বৃষ্টিতে পড়ছে এবং জল পড়ছে। এখন নতুন পলিথিন কেনার টাকা নেই।

জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের বাইপাড়িডাঙ্গী গ্রামের বেড়িবাঁধ সড়কে আশ্রয়কৃত বন্যার শিকার কাওসার শেখ বলেন, “আমি একরকম পাট দিয়ে একটি বাড়ি তৈরি করছি। বৃষ্টিতে ঘর ভেসে গেছে। আমরাও সারাদিন ভিজে গেলাম। পেটে খাবার নেই, আবার জ্বর হলে ওষুধ কীভাবে কিনব।

jagonews24

গাজিরটেক ইউপি চেয়ারম্যান মো। ইয়াকুব আলী জানান, বৃষ্টির কারণে শরণার্থীদের দুর্ভোগ বেড়েছে। তারা কোনওভাবে পলিথিন এবং পাট দিয়ে চাপড়া তৈরি করেছে। সব ভিজে গেছে। মানুষ পাশাপাশি রাস্তায় রাখা গবাদি পশু বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। আমি নতুন পলিথিন এবং পাট সংগ্রহ করে ঝুপড়িগুলি ঠিক করার ব্যবস্থা করছি।

ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ অব্যাহত রেখেছে। মঙ্গলবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের ত্রাণ বিতরণ করেন।

বি কে সিকদার সজল / বিএ