বাড়ির সামনে বেড়া দেয়ায় কাজেও যেতে পারছে না পরিবারটি

নওগাঁ -২

পূর্বের শত্রুতার কারণে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা নওগাঁর বদলগাছিতে একটি দরিদ্র পরিবারকে অবরুদ্ধ করেছেন। ঘর থেকে বেরোতে না পারায় নিঃস্ব আব্দুল সালামের পরিবার।

প্রাক্তন ইউপি সদস্য মফফার আলীর ছেলে সোহেল রানা গত দুদিন ধরে উপজেলার বালুভারা ইউনিয়নের কুশমুরি গ্রামে তার বাড়ির দুপাশে একটি বেড়া তৈরি করেছেন। স্থানীয়রা তাদের অত্যাচারে ক্ষুব্ধ। অসহায় আবদুস সালাম প্রশাসনের সদিচ্ছা কামনা করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কুশারমুরি গ্রামের প্রভাবশালী সাবেক ইউপি সদস্য মুফার আলীর ছেলে সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র আব্দুস সালামের স্ত্রীর কাছে প্রস্তাব দিচ্ছিলেন।

দু’মাস আগে সোহেল রানা বাড়িতে মাদক সেবনের অভিযোগে আবদুস সালাম ও তার স্ত্রীকে মারধর করে। সোহেল রানা এবং আরও পাঁচ জনের বিরুদ্ধে মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মামলা করা হয়েছিল।

এই মামলায় পুলিশ সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে প্রেরণ করেছে। সোহেল রানা কারাগারে থাকার পরে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। এরপরে অভিযুক্তরা মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তরা বিভিন্নভাবে তাদের হুমকি দিচ্ছিল।

গত শনিবার (২১ নভেম্বর), সোহেল রানা আবদুস সালামের বাড়ির উত্তর ও দক্ষিণ দিকে তাঁর লাঠি হাতে বাঁশের বেড়া তৈরি করেন। আবদুস সালামের পরিবারের 7 সদস্যকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

দরিদ্র অসহায় পরিবারটি বাড়ি থেকে বেরোতে পারে না। শ্রমজীবী ​​পরিবার এখন প্রায় অনাহারে।

কুশরমুরি গ্রামের ভুক্তভোগী আব্দুস সালাম জানান, প্রভাবশালী মুফার আলীর ছেলে সোহেল রানা দীর্ঘদিন ধরে তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করছিল। এ ব্যাপারে একটি মামলাও দায়ের করা হয়েছে। তারা মামলার পরে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

তিনি জানান, তিনি এখন মামলা প্রত্যাহারের হুমকি দিচ্ছেন। তারা মামলা না নেওয়ায় তারা শনিবার বাড়ির দুপাশে বাঁশের বেড়া দেয়। আমি বাসা থেকে বেরোতে পারি না।

একই গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন জানান, তারা (সোহেল রানা) প্রভাবশালী হওয়ায় তারা জোর করে আমাদের জমি দখল করতে চায়। মামলাটি চলছে প্রায় দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে। তারা কোন কিছুরই পাত্তা দেয় না।

এদিকে অভিযুক্ত সোহেল রানা ভয় দেখানোর অভিযোগ অস্বীকার করে এবং বলেছে যে বাঁশের বেড়াটি কাউকে আটকাতে নয় কবরস্থান রক্ষার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।

কেন তিনি এত দিন বেড়া তৈরি করেন নি এই প্রশ্নের উত্তর দেননি।

স্থানীয় বালুভরা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মো। আইন উদ্দিন জানান, তিনি দৃশ্যটি দেখেছেন। বেড়া দিয়ে কোনও বাড়ির চলাচলে বাধা দেওয়া ঠিক হয়নি। দুই পক্ষ যদি আপস করে তবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাদলগাছী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী জোবায়ের আহমেদ জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তবে তিনি বলেন, কোনও অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আব্বাস আলী / এফএ / পিআর

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ-বেদনা, সংকট, উদ্বেগের মধ্যে সময় কেটে যাচ্ছে। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]