বাড়ি থেকে বের করে দিলো স্বামী, গৃহবধূকে গণধর্ষণের পর হত্যা

এসপি-প্রেস

নীলফামারীর সৈয়দপুরে গৃহবধূ আকলিমা হত্যার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। গণধর্ষণ করে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নীলফামারীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে জানান, ২৩ আগস্ট সৈয়দপুর থানার কামারপুকুর ইউনিয়নে একটি মাছের খামারের পিছনে একটি অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার মরদেহ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে সৈয়দপুর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ঘটনাস্থলে তল্লাশির পরে পুলিশ জানতে পারে নিহত গৃহবধূ আকলিমা আক্তারের নাম। তিনি কিসমত কামারপুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে। আকলিমার লাশের সাথে একটি নোট পাওয়া গেছে যে তাতে উল্লেখ করা হয়েছে যে তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। প্রাথমিকভাবে, আকলিমার মা সন্দেহের ভিত্তিতে জামাই শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। লাশের গলায় দড়ি এবং জব্দ করার চিহ্ন পর্যালোচনা করা প্রাথমিকভাবে কোনও ধারণা দেয়নি।

তিনি আরও জানান, আকলিমার স্বামী বিদেশিদের আসক্ত ছিল এবং প্রতিদিন আকলিমাকে মারধর করে। ২২ আগস্ট, আকলিমার স্বামী তাকে তার বাচ্চাদের সাথে রেখে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। আকলিমা তার বাবার বাড়িতে জায়গা না পেয়ে রাতে রাস্তায় অবস্থান নেয়। মাছের খামারের কাছে কামারপুকুর এলাকার কাঙ্গালুপুর এলাকার আনারুল ইসলাম মো। শুভ ও মোঃ হৃদয় আকলিমাকে খাবার এবং সাহায্যের কথা বলে। পরে তারা তাকে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে আনারুল ও শুভ মাছ ধরার বালতিতে দড়ি বেঁধে আকলিমার শ্বাসরোধ করে। গল্পটি অন্যদিকে ফিরিয়ে আনার জন্য ডার্বি সংস্থার সিগারেটের বাটে নিজের হাতে একটি সুইসাইড নোট লিখে আনলুল আকলিমার কোমরে আটকে দিলেন। তারা হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা হিসাবে চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, আকলিমা এবং তার স্বামীর হাতের লেখার মধ্যে কোনও মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরে রাখালদের ছদ্মবেশে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে ডার্বি সিগারেট খাওয়া প্রায় 60০/70০ জনকে সনাক্ত করে। নোটগুলির হস্তাক্ষরগুলি তাদের হাতের লেখার সাথে মেলে। ঘটনার এক পর্যায়ে নোটের হাতের লেখা আনারুলের হাতের লেখার সাথে মিলে যায়। তারপরেই এসেছিল গৃহবধূ আকলিমার নির্মম হত্যার মূল গল্প।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনারুল ও শুভকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তারা বিজ্ঞ আদালতে ১4৪ ধারার অধীনে স্বেচ্ছাসেবীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। অন্য আসামি মো। হৃদয় ধরার জন্য অভিযান চলছে।

জাহিদ / আরএআর / পিআর