ভারতে স্কুলের বইয়ে বর্ণবাদী শিক্ষা!

india-1

গত মাসে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক কৃষ্ণাঙ্গের মৃত্যুর জেরে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্র। ধীরে ধীরে বর্ণবাদবিরোধী এ আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ছে সারাবিশ্বে। এর মধ্যেই বর্ণবাদ বিতর্কে জড়িয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। রাজ্যটির একটি সরকারি স্কুলের পাঠ্যবইয়ে বর্ণবাদী শিক্ষার ছাপ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বর্ধমান মিউনিসিপ্যাল গার্লস স্কুলে সরকার নির্ধারিত বই বাদ দিয়ে বাইরের পাঠ্যবই পড়ানো হচ্ছিল। বইটির একটি জায়গায় ইংরেজি ‘ইউ’ অক্ষরের ব্যবহার বোঝাতে ‘আগলি’ (কুৎসিত) শব্দটি ব্যবহার করা হয়। আর এর সঙ্গেই জুড়ে দেয়া হয়েছে এক কৃষ্ণাঙ্গের ছবি।

বিষয়টি চোখে পড়তেই এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করেন। এরপরেই ব্যবস্থা নেয় রাজ্যের শিক্ষা অধিদপ্তর। বইটি বাতিল ঘোষণার পাশাপাশি বরখাস্ত করা হয়েছে ওই স্কুলের দুই শিক্ষিকাকে।

এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘বইটি সরকারি ছাপাখানায় ছাপা হয়নি, সরকার অনুমোদিতও নয়। তারা নিজ উদ্যোগেই পড়াচ্ছিলেন বইটি। এ বিষয়ে অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুই শিক্ষিকাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।’

বরখাস্ত হওয়া দু’জন হলেন ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শ্রাবণী মল্লিক ও প্রাক-প্রাথমিক বিভাগের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা বর্ণালী ঘোষ।

অভিযোগের বিষয়ে বর্ণালী ঘোষের বক্তব্য, ‘আমি নামেই ভারপ্রাপ্ত শিক্ষিকা। পুরোটাই নজরদারি করেন প্রধান শিক্ষিকা।’

তবে শ্রাবণী মল্লিকের দাবি, ‘আমি স্কুলের ওই বিভাগের প্রশাসনিক প্রধান। পড়াশোনার সঙ্গে আমার সরাসরি যোগ নেই। বই বাছাইও আমি করি না।’

তিনি জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই যে দু’জন শিক্ষিকা বই বাছাই করেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা জানিয়েছেন, অসাবধানতাবশত বিষয়টি তাদের নজর এড়িয়ে গিয়েছিল।

বিতর্কিত বইটির প্রকাশক শিশির কুমার পাল বলেন, ‘বইটি মোট দুই হাজার কপি ছাপা হয়েছিল। সেগুলো তুলে নেয়া হচ্ছে। অনিচ্ছাকৃত ভুলের ঘটনায় আমরা দুঃখিত।’

সূত্র: এনডিটিভি, আনন্দবাজার পত্রিকা

কেএএ/পিআর

.