ভেলায় ভেসে সুমনকে আর মাদরাসায় যেতে হবে না

jagonews24

যশোরের শার্শার উদ্ভাবক মিজানুর রহমান তার স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন। শার্শা হাফিজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র মোঃ আবু তালহা সুমন। বেতনা নদী তার বাড়ির বাইরে পড়েছিল।

নৌকাটি তাঁকে নদী পার হওয়ার জন্য উপহার হিসাবে দেওয়া হয়েছিল। তালহার ভূমিহীন বাবা উপজেলার বেড়ি নারায়ণপুর গ্রামের হাসানুজ্জামান জানান, তার ছেলের লেখাপড়ার জন্য নৌকাটি খুব উপকারী হবে।

গাদখালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক নবীনগর মিতালী সংঘের সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকাল ১১ টার দিকে বেরি নারায়ণপুর বেতনা নদীর তীরে নৌকাটি তাঁর হাতে তুলে দেন।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী আবু তালহা সুমন বলেন, “বেতনা নদী পার হতে আমার অনেক কষ্ট হত। আমাদের কলা গাছ কাটতে হয়েছিল এবং ভ্রমণের জন্য ভেলা তৈরি করতে হয়েছিল। অনেক সময় বই নদীতে পড়ে আবার ভিজে যেত।

এজন্য আমি ঠিকমতো মাদ্রাসায় যেতে পারিনি। ব্যবসায়ী আলমগীর ভাইয়া আমার লেখার সুবিধার্থে আমাকে উপহার দিয়েছিলেন দেশের সেরা উদ্ভাবক মিজানুর রহমানের সহযোগিতায়। আমি এটির জন্য কৃতজ্ঞ এবং একই সাথে যারা আমাকে আজ নৌকা চালাতে সহায়তা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানাই।

আবু তালহারের বাবা হাসানুজ্জামান বলেছিলেন, “আমি খুব গরীব ও ভূমিহীন মানুষ।” আমি সরকারী জমিতে থাকি। আমার ছেলে তালহা একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেছিল। পড়তে তাঁর এত আগ্রহ ছিল যে তিনি ভেলা দিয়ে বেতনা নদী পার হয়ে প্রতিদিন মাদ্রাসায় যান। জলে পড়ার পরেও তিনি কখনও মাদ্রাসায় যাওয়া বন্ধ করেননি। আমি উদ্ভাবক মিজান ভাই এবং তাঁর অন্যান্য সহযোগীদের কাছে কৃতজ্ঞ।

নৌকার হস্তান্তরকালে নবরন ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক উজ্জ্বল হোসেন, সাংবাদিক সোহেল রানা, আবু হাসান আকিব ও নুর হোসেন আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি আলমগীর হোসেন আবু তালহার তার পড়াশোনার জন্য সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

জামাল হোসেন / এএম / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]