ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয়ে অভিযান চালাতেন তারা

jagonews24

যশোরের অভয়নগর থানা পুলিশ একটি নকল মহিলা ম্যাজিস্ট্রেট সহ চারজন প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে। ‘পিএম টিভি’র লোগো সহ বিভিন্ন সুপরিচিত দৈনিক, সিল, বুম, লাঠি, ভিজিটিং কার্ড ইত্যাদির পরিচয় পত্র উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়াও একটি প্রাইভেটকার (Dhakaাকা মেট্রো জি -৩৩-৩৩২৯) এবং এই কেলেঙ্কারীতে ব্যবহৃত দুটি ওয়াকি-টকিও আটক করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মণিরামপুর উপজেলার ধকুরিয়া বাজার থেকে এই ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

নকল ম্যাজিস্ট্রেট জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি (২২) খালিশপুর থানার গোয়ালখালী এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের কন্যা, মোস্তফা ফয়সাল (৩৪) একই থানার গোয়ালখালী এলাকার এসএম বাবর আলীর ছেলে, নুর মোহাম্মদের ছেলে শাহাদ, দৌলতপুর থানার দক্ষিণ পাবলা এলাকার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ) এবং জহিরুল ইসলাম (৪০) ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের আলকাদি গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা সীমান্তের kurাকুরিয়া বাজারে মহিলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে কথিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। কিন্তু তাদের আচরণ সন্দেহ হলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাদের গ্রেপ্তার করে এবং পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ একটি মহিলা ও তিনজনকে একটি প্রাইভেট গাড়িতে করে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে রাতে থানায় নিয়ে আসে।

আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা বিভিন্ন পত্রিকার সাংবাদিক বলে দাবি করেছে এবং তাদের পরিচয়পত্র দেখিয়েছে। তাদের ব্যাগ অনুসন্ধানের সময় দুটি সিল, একটি পিএম টিভি লোগো সহ একটি বুম, দুটি লাঠি, অসংখ্য ভিজিটিং কার্ড, তথ্যের জন্য দুটি আবেদন ফর্ম এবং নগদ 29,900 টাকা পাওয়া যায়।

ওসি আরও বলেছে যে, একটি প্রতারণামূলক ম্যাজিস্ট্রেট অভিযানগরের প্রেমবাগ গেটে দু’জন হোটেল মালিক এবং মাগুরা বাজারের একটি রাইস মিলের মালিকের কাছ থেকে ২৩ আগস্ট চুরি করেছে বলে অভিযোগ।

মঙ্গলবার এসআই নাসির উদ্দিন, এএসআই তরিকুল ইসলাম ও মিত্র বাহিনী তাদেরকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে এমন খবরের ভিত্তিতে প্রতারকরা ম্যাজিস্ট্রেটের ছদ্মবেশে ধকুরিয়া বাজারে অভিযান চালিয়েছে।

রাতে তিন ব্যবসায়ীকে আটককৃতদের সামনে আনা হলে দই বাড়ির মালিক মতিয়ার রহমান জানান, জান্নাতুল ফেরদৌস ইতি নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে। পরে তাকে পাঁচ হাজার টাকায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল।

প্রেমবাগের বনলতা স্যুইটের মালিক মুরাদ হোসেন জানান, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে মিষ্টি তৈরির জন্য মহিলাসহ তিনজন আটককৃত ব্যক্তি তার দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে দেড় লক্ষ টাকা জরিমানা করেন। তিনি যখন ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন, তারা চলে গেলেন।

মাগুরা গ্রামের একটি রাইস মিলের মালিক আবদুল মজিদ জানান, আটক চারজন ২৩ আগস্ট বিকেলে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন নথি দেখতে চেয়েছিলেন। কাগজ বিভাগের লাইসেন্স না পাওয়ার জন্য তারা ২ লাখ রুপি চেয়েছিলেন এবং পরিবেশ। তারা বিতর্ক শুরু করলে তারা চলে যায়।

মিলন রহমান / এমআরএম