শুদ্ধি অভিযানের প্রতিফলন যুবলীগের কমিটিতে

jagonews24

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি জাতীয় কংগ্রেসের আগে সারাদেশে চলমান নির্মূল অভিযানের প্রতিফলন ঘটবে। ক্যাসিনো কেলেঙ্কারী, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রশস্ত্রসহ বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত নেতাদের বাদ দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে। এ কারণে সংবিধান চূড়ান্ত করার পাশাপাশি সংস্থার শীর্ষ দুই নেতা পূর্ণ কমিটি গঠনে সময় নিচ্ছেন।

সংগঠনের একাধিক সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী, চলমান নির্মূল অভিযানে যুবলীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতার নাম উল্লেখ করার পরে সংগঠনের মধ্যে সংস্কার ও নতুন মেরুকরণের প্রয়োজন ছিল। সর্বশেষ জাতীয় কংগ্রেসের আগে যুবলীগ নেতাদের বয়স নির্ধারণ, বিতর্কিত নেতাদের কমিটি থেকে বহিষ্কার ও বহিষ্কারসহ বিভিন্ন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিল এই সাংগঠনিক পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা পুরো কমিটিতে প্রতিবিম্বিত হতে চান।

গত বছরের ২৩ শে নভেম্বর সংগঠনের জাতীয় কংগ্রেসের পর থেকে এই দুই শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে যুবলীগের কার্যক্রম চলছে। সংগঠনটির তৎকালীন চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীকে জাতীয় কংগ্রেসের আগে দেশব্যাপী নির্মূল অভিযানের প্রেক্ষিতে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া সংগঠনের একাধিক নেতাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। যার প্রভাব পড়েছিল জাতীয় কংগ্রেসে। কংগ্রেসের আগে যুবলীগ নেতা হওয়ার বয়সসীমা 45 বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে যুবলীগের বিদায়ী কমিটির প্রভাবশালী নেতা জাগো নিউজকে জানান, পুরো কমিটিতে পদ পেতে বিভিন্ন স্তরের নেতারা সংগঠনের চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে তদবির করছেন। বিভিন্ন অনিয়মের সাথে জড়িত নেতারা যুবলীগের শীর্ষস্থানীয় দুই নেতার পাশাপাশি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথেও পদ প্রত্যাশা করছেন। তবে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতিরেকে কেউ কিছুই জানেন না।

যুবলীগ সূত্রে জানা গেছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জাতীয় কংগ্রেসের আগে একাধিক নেতাকে বিভিন্ন পদ থেকে বরখাস্ত বা বহিষ্কার করা হয়েছিল। সদ্য নির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদক জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে কমপক্ষে ২ leaders জন নেতাকে বহিষ্কার করেছেন। তিনি দুটি জেলা শাখার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সংগঠনের শীর্ষ দুই নেতা প্রতিদিনের কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সংগঠনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং বিতর্কিত নেতাদের অনুগামীদের আসতে বাধা দেওয়ার জন্য বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত নেতাদের নেওয়া সাংগঠনিক পদক্ষেপ সম্পর্কেও অবগত আছেন। ভবিষ্যতে কোনও পোস্ট।

কেন্দ্রীয় যুবলীগের বিদায়ী কমিটির অপর নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছিলেন, জাতীয় কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও কমিটি গঠনে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে, যুবলীগের নেতাদের নাম পরিষ্কারের ক্ষেত্রে উঠে আসার পরেও প্রচার। উদ্দেশ্যটি হ’ল সংগঠনের চিত্রের স্বার্থে কোনও নতুন বিতর্ক এড়ানো। পাশাপাশি পুরো কমিটি গঠনের জন্য সময় নেওয়া হচ্ছে যাতে সাফাই অভিযান চালিয়ে যাওয়া বা সংগঠনটিকে বিতর্কের মুখে ফেলে দেওয়া নেতাদের অনুসারীরা সংগঠনের কোনও দায়িত্বশীল পদে রাখতে না পারে।

এ বিষয়ে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মইনুল হোসেন খান নিখিল জাগো নিউজকে বলেছেন, আমাদের সংবিধান চূড়ান্ত করার পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের কাজ চলছে। নির্মূল অভিযানের প্রভাব অবশ্যই পূর্ণাঙ্গ কমিটির উপরে থাকতে হবে। সংগঠনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গকারী কোনও নেতা আমরা চাই না। আমরা (সাংবাদিক) এ ক্ষেত্রেও আপনার সহযোগিতা চাই। আপনার যদি কোনও তথ্য থাকে তবে দয়া করে আমাদের সাথে সহযোগিতা করুন।

এউএ / এমএআর / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজই এটি প্রেরণ করুন – [email protected]