সঙ্কটাপন্ন মানুষের জীবন বাঁচায় ‘আত্মীয়’

jagonews24

‘আত্মীয়দের রক্তদান, প্রাণে প্রাণ মিশ্রিত’ স্লোগান নিয়ে চলছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আত্মিয়া’। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলায় এই সংস্থার প্রধান কাজ হ’ল জনগণকে রক্ত ​​দেওয়া। দু’বছর আগে ভ্রমণকারী স্বজনদের রক্ত ​​বিপদে বহু মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তবে করোনাভাইরাস সংকটের সময়ে সংগঠনের সদস্যরা বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে নিজেকে মানব আত্মার পরম আত্মীয় করে তুলেছেন।

জানা গেছে, ২০১ August সালের ১ August ই আগস্ট আখাউড়া উপজেলার কয়েকজন তরুণ নিবেদিত কর্মীর সাথে আত্মীয়স্বজন তাদের সরকারী যাত্রা শুরু করেছিলেন। আত্মিয়ার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারী সমীর চক্রবর্তীর নেতৃত্বে শেখ দিপু, সুজন সাহা, হৃদয় দেব, এমআরআই রাকিব, সুদীপ্ত সাহা, ইমদাদ কিবরিয়া, রাকিবা হাবিব আয়ান, মমতা ঘোষ মণি, আশরাফুল ইসলাম জুবাইদ প্রমুখের ২০-২৫ জন যুবক ছিলেন। কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে সংগঠনের সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে রক্তদানের মতো দুর্দান্ত কাজ করে যাচ্ছেন। যখনই কেউ রক্তের জন্য ডাকেন তখন কোনও আত্মীয়র রক্তদাতা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সুতরাং, গত দুই বছরে স্বজনরা 417 বার রক্ত ​​দিয়েছেন। এখনও পর্যন্ত এই সংস্থার নিবন্ধিত রক্তদাতার সংখ্যা 1,035 জন। এছাড়াও, অনেক লোক কোনও আত্মীয়ের ডাকে সাড়া দিয়ে রক্ত ​​দান করে।

রক্তদানের পাশাপাশি আত্মীয়স্বজনরা বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। মানুষকে রক্তদানের জন্য উদ্বুদ্ধ করতে প্রতি মাসে ‘আতমিয়া অ্যাডা’ নামে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে স্বজনরা এক অন্য ধরণের ‘প্রকৃতি উত্সব’ আয়োজন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সংস্থার সামনে বাগান স্থাপন অন্তর্ভুক্ত ছিল। মাসব্যাপী বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা ছাড়াও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়ের কার্যক্রমও করা হয়।

করোনায় লোকের পাশে আত্মীয়স্বজন

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের পরে ৩১ শে মার্চ আখাউড়া উপজেলার ১১৮ জন বেকার পরিবারকে স্বজনরা খাদ্য সহায়তা দিয়েছিলেন। ২ April শে এপ্রিল থেকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও উপজেলা ছাত্রলীগের সমন্বয়ে এই সংস্থাটি মোবাইল ফোনে লোকজনের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করে আসছে। 12 ই মে, হাসপাতালের 25 রোগী, ভিজেন্ট এবং শ্রমিকদের ইফতার দেওয়া হয়েছিল।

jagonews24

আত্মীয়-স্বজনরা করণাভাইরাস নিয়ে লড়াই করা ফ্রন্টলাইন যোদ্ধাদের চিঠি লিখেছিল, তাদেরকে ভাল আত্মার মধ্যে রাখার জন্য ডাক্তার, পুলিশ, প্রশাসন, পৌরসভা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়েছিল। এ ছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নয়জন চিকিৎসককে ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষামূলক সরঞ্জাম দেওয়া হয়েছিল।

আখাউড়ার রাধানগর এলাকার বাসিন্দা বিশ্বজিৎ পাল, যিনি স্বজনদের মাধ্যমে রক্ত ​​দান করেছেন, তিনি বলেন, গত দুই বছরে আমি স্বজনদের মাধ্যমে পাঁচবার রক্ত ​​দিয়েছি। প্রতিবারই রক্ত ​​গ্রহণকারীদের আবেগ দেখেছি। আত্মীয়স্বজনরা যেভাবে মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য কাজ করছেন তা দেখে সত্যিই জীবন যুক্ত হয়।

আখাউড়ার রাধনগরের এক যুবক রাজীব সাহা, যিনি এক আত্মীয়ের মাধ্যমে তার বোনের রক্ত ​​পেয়েছিলেন, স্বজনরা জানিয়েছেন, এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে তার বোনের জন্য চার ব্যাগ রক্ত ​​সংগ্রহ করেছিলেন আত্মীয়রা। সেদিন ছিল Eidদের দিন। কেউ কেউ ত্যাগ ত্যাগ করেন, অন্যরা বাড়িতে অন্যান্য অনুষ্ঠান ছেড়ে রক্তদানের জন্য ছুটে যান।

আতমিয়ার সমন্বয়ক শেখ দিপু বলেছেন, রক্তের প্রয়োজনে মানুষের পাশে থাকার ব্রত নিয়ে আমরা সংগঠনের যাত্রা শুরু করি। আমরা মানুষের মধ্যে ভালবাসা বাড়াতে চাই। আমরা বিশ্বাস করি যে রক্তদান মানুষের ভালবাসা বাড়াতে পারে। মানব প্রেমে আত্মীয়স্বজন রক্তদানের প্রতি আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছে।

jagonews24

আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক শ্যামল ভৌমিক জানান, করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পরে লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। এ সময় আতমিয়া নামের সংস্থাটি আমাদের সম্পর্কে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করেছে। এই সংস্থার মাধ্যমে আমি এবং স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিত্সক শুভ্র রায় প্রতিদিন তাদের মোবাইল ফোনে গড়ে 10-12 রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করে থাকি। অনেক সময় উপায়ের অভাবে রক্ত ​​সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। আত্মীয়স্বজনরা এখন রক্ত ​​সংগ্রহের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।

আজিজুল সঞ্চয় / আরআর / এমকেএইচ