সবজি বাজারে আগুন, ভরসা কেবল ডাল-ডিম

কুড়িগ্রাম -২

বন্যার কারণে কুড়িগ্রামে সবজি চাষ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জেলার বাইরে থেকে শাকসব্জিসহ প্রয়োজনীয় জিনিস বাজারে আসছে। এই সবজির দাম আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষ বেশি দামি সবজি ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে আগ্রহী।

একদিকে করোনার প্রভাবে মানুষ বেকার, অন্যদিকে বন্যার কারণে শাকসবজি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে কাঁচাবাজারে ব্যাপক দামের কারণে স্বল্প ও মধ্য আয়ের মানুষের জীবন এখন অশান্তিতে। শাকসবজি কেনা এখন কঠিন। যে কারণে প্রত্যন্ত অঞ্চলে কর্মরত পরিবারগুলি ডাল এবং ডিমের উপর নির্ভর করে।

বন্যার সূচনা হওয়ার পর থেকে সবজির দাম বাড়তে শুরু করেছে। তবে গত দুই সপ্তাহ ধরে সবজির দাম আকাশ ছোঁয়াছে। বর্তমানে সাধারণ মানুষকে প্রতি কেজি দরে দুই থেকে চারগুণ দামে সবজি কিনতে হয়।

জেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সবুজ মরিচ প্রতি টাকায় দেখা যায়। আর কলমির সবজি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩০ টাকা। মিষ্টি কুমড়ো প্রতি পিস প্রতি 60০ থেকে ১০০ টাকায়, চালের কুমড়ো প্রতি পিস ৪০ থেকে ৫০ টাকায়, কুমড়ো প্রতি পিস ৫০ থেকে 60০ টাকায় এবং কাচের জিনিসপত্র প্রতি হালি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দামও কেজিপ্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা বেড়েছে।

হাটে আসা প্রভাষক আতাউর রহমান জানান, বাজারে সব ধরণের সবজির সরবরাহ নেই। তাদের যা আছে তা চারগুণ বেশি ব্যয়বহুল। আপনি যদি আগে এক কেজি কিনেছিলেন, এখন আপনাকে একটি পোয়া কিনতে হবে।

ক্রেতা রফিকুল ইসলাম জানান, স্বল্প ও মধ্য আয়ের লোকেরা সবজি কেনা ও খাওয়া এখন স্বপ্নের বিষয়। তাই দিনগুলি ডিমের ডালগুলিতে চলছে।

গৃহবধূ ঝর্ণা রানী জানান, বেশিরভাগ সপ্তাহে তাকে ছানা আলু এবং ভাজা ডিম দিয়ে কাটাতে হয়। সবজির বাজারে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এবং আপনি সবুজ মরিচ কেনা এবং খাওয়ার কথা ভাবতে পারবেন না।

সবজি বিক্রেতা আবদুল জলিল জানান, কুড়িগ্রামের বেশিরভাগ সবজি বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং জেলার বাইরে থেকে শাকসবজি আনতে হয়েছিল। ফলস্বরূপ দামটি কিছুটা বেশি।

কুড়িগ্রাম -২

মজিনুর রহমান নামে এক সবজি চাষী বলেন, আমি এক বিঘা জমিতে কুমড়ো ও করলা লাগিয়েছি। বন্যার জলে ডুবে না থাকলেও বৃষ্টিপাতের ফলে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। এতে করলা নষ্ট হয়ে গেছে। লাউয়ের ফলন সামান্য হলেও আসল মূলধন বাড়বে না। তিনি বর্তমানে প্রতি পিস ৪০ টাকায় কুমড়ো বিক্রি করছেন।

কুড়িগ্রামের কাঁচাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল বলেছেন, তাঁর ইউনিয়নের ৯৫ শতাংশ সবজি ক্ষেত বন্যায় ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে ব্যবসায়ীরা বাইরে থেকে সবজি নিয়ে আসছেন। দাম বেশি থাকায় সর্বস্তরের মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। তিনি বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সরকারের কাছ থেকে বিশেষ প্রণোদনা চেয়েছিলেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার দীর্ঘমেয়াদী বন্যা কুড়িগ্রামে ১ 16,০০০ হেক্টর ফসল ধ্বংস করেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার কৃষক। সরকারীভাবে কৃষিতে লোকসানের পরিমাণ ১৪০ কোটি টাকা।

নাজমুল হোসেন / এফএ / পিআর