সার্বভৌমত্ব ও সমুদ্রসম্পদ রক্ষায় নৌবাহিনীকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান

jagonews24

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় সর্বদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, তাঁর সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য সুনীলের অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদেরকে শুধু সমুদ্রসীমা অধিগ্রহণের জন্য নয়, দেশের উন্নয়নের জন্যও কাজ করতে হবে এবং এ কারণেই আমরা সুনীল অর্থনৈতিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য এই বিশাল সামুদ্রিক সম্পদ আহরণ ও কাজে লাগানো এবং তাঁর সরকার সে লক্ষ্যে কাজ করছে। এবং জাতির পিতার স্বপ্নকে উপলব্ধি করতে আমরা আমাদের সামুদ্রিক সীমান্ত রক্ষার জন্য নৌবাহিনী তৈরি করছি। ।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ নৌবাহিনীর পাঁচটি নতুন আধুনিক যুদ্ধজাহাজ কমিশন করেছেন। তিনি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশ নৌবাহিনী এর ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় আরও এক ধাপ এগিয়ে গেছে। দিনটি কেবল বাংলাদেশ নৌবাহিনীই নয়, সমগ্র দেশ ও জাতির জন্য অত্যন্ত গৌরবময়। ‘

এই কমিশনের ফলস্বরূপ, দুটি নতুন আধুনিক নৌবাহিনী বনৌজা ওমর ফারুক, আবু উবাইদাহ এবং একটি করভেট যুদ্ধ জাহাজ প্রতাশা এবং দুটি জরিপ জাহাজ বনৌজা বাংলাদেশের জলরাশি রক্ষা এবং সুরক্ষার জন্য এবং নৌবাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে চালু করা হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নৌবাহিনীতে নৌযান চালাচ্ছিলেন। এর আগে চট্টগ্রামের বনৌজা ইশখান নেভাল জেটিতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে নৌ-বাহিনী প্রধান অধিনায়ক এম শাহীন ইকবাল জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছে কমিশন কমিশন হস্তান্তর করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী নৌবাহিনীর নিয়ম অনুসারে নেমপ্লেটটি উন্মোচন করেন।

নৌবাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল তাকে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অফ অনারও দিয়েছিল। গণভবনপ্রান্তে প্রধানমন্ত্রীর সুরক্ষা উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব।) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো। আহমেদ কাইকাউস সহ গণভবনের প্রধানমন্ত্রী ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নেভির সদস্যরা পর্দার আড়াল থেকে বহু প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়ে প্রতিনিয়ত সমুদ্র অঞ্চলটির সামগ্রিক সুরক্ষা নিশ্চিত করে যা প্রশংসনীয়।

দেশের পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমরা কারও সাথে লড়াই করতে চাই না। জাতির পিতা আমাদের বিদেশনীতিতে বলেছেন -” সকলের সাথে বন্ধুত্ব কারও সাথে শত্রুতা নয় “, আমরা তাতে বিশ্বাস করি নীতিমালা।কিন্তু বাংলাদেশ যদি কখনও বাহ্যিক শত্রু দ্বারা আক্রমণ করা হয় তবে আমরা এর মোকাবিলার সক্ষমতা অর্জন করতে চাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আমাদের সুসংহত সংগঠিত সশস্ত্র বাহিনী দেশের সীমানা অতিক্রম করেছে এবং আজ তারা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও একটি উচ্চ প্রশংসিত পেশাদার শক্তি।”

তিনি বলেন, “২০১০ সাল থেকে আমাদের যুদ্ধজাহাজগুলি জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনের অংশ হিসাবে ভূমধ্যসাগরে অংশ নিচ্ছে।” এই বছরের আগস্টে আমরা সেখানে আমাদের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির একটি করভেট বানৌজা ‘সংগ্রাম’ প্রেরণ করেছি, যা বিদেশে আমাদের চিত্রকে আলোকিত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দলটি খুব দক্ষতার সাথে দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিরক্ষা মিশন ছাড়াও এই বাহিনী নিয়মিত বহু-জাতীয় অনুশীলন, বঙ্গোপসাগরে সমন্বিত সমন্বিত টহল এবং কূটনৈতিক সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সমুদ্র সুরক্ষা জোরদার করছে।

তিনি বলেন, “মালদ্বীপে যখন পানীয় জল জলের অভাব ছিল, তখন আমরা আমাদের নৌবাহিনী দিয়ে সেখানে পানের জল প্রেরণ করতাম এবং তাদের সহযোগিতা করি,” তিনি বলেছিলেন। তিনি দেশ ও প্রতিবেশী দেশগুলিতেও বিভিন্ন সহায়তার জন্য বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।

বঙ্গবন্ধুর ভাষণের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার তার পদক্ষেপ অনুসরণ করে নৌবাহিনীকে আধুনিক, দক্ষ ও শক্তিশালী বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর সরকার ১৯ 197৪ সালের বঙ্গবন্ধুর ‘প্রতিরক্ষা নীতি’র আলোকে শুধু নৌবাহিনীই নয়’ বাহিনী লক্ষ্য -২০১০ ‘বাস্তবায়ন শুরু করেছে এবং তার পর থেকে তার সরকার নৌবাহিনীকে আধুনিক ও শক্তিশালী হিসাবে গড়ে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে জোর।

শেখ হাসিনা বলেছিলেন, “আমাদের সরকার নৌবাহিনীতে উন্নত সাবমেরিন, যুদ্ধজাহাজ, সামুদ্রিক টহল বিমান, হেলিকপ্টার এবং বিশেষ বাহিনীর বর্তমান প্রজন্মকে যুক্ত করেছে এবং এর মাধ্যমে আমরা ‘চ্যালেঞ্জগুলি মোকাবেলায় ত্রি-মাত্রিক নৌবাহিনী গড়ে তোলার জন্য আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি একবিংশ শতাব্দী ‘।

“আমি বিশ্বাস করি যে কমিশনযুক্ত জাহাজ নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী, আরও দক্ষ এবং দ্রুততর করে তুলবে,” তিনি বলেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমাদের দৃ firm় বিশ্বাস যে আমাদের নিজস্ব খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত দুটি আধুনিক ফ্রিগেট এবং একটি অত্যাধুনিক করভেট এবং দুটি আধুনিক সমীক্ষা জাহাজ বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নৌবাহিনীর সক্ষমতা আরও জোরদার করবে,” তিনি বলেছিলেন। এছাড়াও আমাদের নিজস্ব আঙিনায় জাহাজ তৈরির ক্ষমতা আমাদের আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করেছে।

“আমরা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলিতে জাহাজ তৈরি এবং সরবরাহ করতে সক্ষম হব এবং ধীরে ধীরে আমরা এই ক্ষমতা অর্জন করব,” তিনি বলেছিলেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, ১৯৯ post-পরবর্তী সরকার সরকার খুলনা শিপইয়ার্ড এবং ড্রাইডককে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কারণে আজ দেশে যুদ্ধজাহাজ তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে। নৌবাহিনীর সাহসী সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত অপারেশন জ্যাকপট আমাদের নৌযুদ্ধের ইতিহাসের এক অনন্য মহাকাব্য।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার লক্ষ্যে একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করে স্বাধীনতার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে আধুনিকায়নের পদক্ষেপ নিয়েছিলেন। এর আগে, পাকিস্তান আমলে জাতির পিতা তার ছয় দফার প্রস্তাবনায় বাংলাদেশে একটি নৌ ঘাঁটি থাকার কথাও উল্লেখ করেছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর আন্তরিক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও, মুক্তিযুদ্ধের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে সাহায্যকারী একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশ ভারত থেকে সংগৃহীত দুটি টহল নৈপুণ্য ‘পদ্মা’ এবং ‘পলাশ’ দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর যাত্রা শুরু হয়েছিল।

তিনি বলেন, জাতির পিতা ১৯ 197৪ সালে সমুদ্রের উপর বাংলাদেশের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯ Sea৪ সালে সমুদ্রের আইন প্রণীত করেছিলেন, যদিও জাতিসংঘ এটি অনেক পরে করেছিল।

তিনি বলেন, “জাতির পিতার হত্যার পরে যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা এই বিষয়ে কোন চিন্তাভাবনা বা উদ্যোগ নেয়নি,” তিনি আরও বলেন, “তার পর থেকে ২১ বছর পেরিয়ে গেছে।” এবং ১৯৯ 1996 সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তারা এ ব্যাপারে প্রথম পদক্ষেপ নেয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ নৌবাহিনী বিভিন্ন শান্তিময় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ও প্রশংসা অর্জন করেছে।

কোভিড -১৯ মোকাবিলার জন্য সরকার গৃহীত ব্যবস্থা কার্যকর করতে নৌবাহিনীও তার যথাযথ ভূমিকা পালন করেছে। অধিকন্তু, নৌবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং যে কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগে তাদের সহায়তা করেছে। প্রধানমন্ত্রী এর জন্য নৌবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে ধন্যবাদ জানান।

করোন ভাইরাস সত্ত্বেও তার সরকার দেশের অর্থনীতিকে সমুন্নত রাখতে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছিলেন যে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও বিশ্ব এই করোনভাইরাস থেকে মুক্ত হবে এবং আমরা আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ গড়ুন। ।

২০৪১ সালের মধ্যে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নদর্শন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তাঁর সরকারের উদ্যোগ এবং ২১০০ সালের মধ্যে এক শতাব্দীকালীন ব-দ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজন্ম থেকে বিকাশের গতি বজায় রাখার ধারণা নিয়েই সরকার এটি করছে প্রজন্মের।

তিনি সকলকে হাইজিনের নিয়ম মেনে চলার এবং কর্কনভাইরাস প্রাদুর্ভাবের দ্বিতীয় পর্ব থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করার জন্য মুখোশ পরে ঘরে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান।

বি। এ