সাড়ে পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী একদিনও বিশ্রাম নেননি : তথ্যমন্ত্রী

jagonews24

তথ্যমন্ত্রী মো। হাসান মাহমুদ বলেছিলেন, করোনার সঙ্কট শুরু হওয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী সাড়ে পাঁচ মাসে একটি দিনও বিশ্রাম নেন নি। করোনার সাথে তার আচরণের ক্ষেত্রে তিনি যে বুদ্ধি দেখিয়েছেন তা অতুলনীয়।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে সিলেট বিভাগের চার জেলার সাংবাদিকদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক উত্সাহের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে সিলেট বিভাগের ১০৩ জন সাংবাদিকদের মাঝে উদ্দীপনামূলক চেক বিতরণ করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী জানান, অনেকে বলেছিলেন যে করোনার সময় হাজার হাজার মানুষ দেশে মারা যাবেন। বলা হয়েছিল যে লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে। তবে বাস্তবতা হচ্ছে একা অনাহারে মারা যায়নি। বাংলাদেশে বিশ্বের সবচেয়ে কম করোনভাইরাস মৃত্যুর হার রয়েছে। আমাদের দেশে করোনার মৃত্যুর হার ১.২৫ থেকে ১.৩ শতাংশ, যা ভারত-পাকিস্তানের তুলনায় কম।

হাসান মাহমুদ বলেছেন, মিডিয়া হ’ল রাজ্যের চতুর্থ স্তম্ভ। এই স্তম্ভটি সাংবাদিকরা তৈরি করেছিলেন। বর্তমান সরকার সাংবাদিকদের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। এই সময়েও সরকার সাংবাদিকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। আমরা দলীয় সহযোগিতা নির্বিশেষে সংকটে যারা তাদের উত্সাহিত করি। ভারত এবং পাকিস্তানের সাংবাদিকদের সরকারও প্রণোদনা দেয়নি।

করোনার সময়কালে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, “দু’একটি ব্যতিক্রম বাদে মিডিয়া করোনার সঙ্কটের সময়ে যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন করেছে।” সমালোচনা হবে। অন্যথায় বহুমাত্রিক সামাজিক ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যাবে। সরকার মনে করে যে সমালোচনার পথ প্রশস্ত হয়েছে। তবে সমালোচনা অবশ্যই উদ্দেশ্যমূলক হতে হবে। সমাজকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা। অন্ধত্বের মতো একতরফা সমালোচনা গ্রহণযোগ্য নয়।

দেশের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, যে দেশকে এক সময় তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হত, বঙ্গবন্ধুর কন্যার নেতৃত্বে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশে এখন কোন ঝুপড়ি নেই। ছেঁড়া পোশাক পরা লোক খুঁজে পাওয়া যায় না, স্যান্ডেল ছাড়া লোক পাওয়া যায় না। এটাই বাস্তবতা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ বদলেছে।

বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, যারা বঙ্গবন্ধুর সাথে রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, যারা স্বাধীনতা মেনে নিতে পারেননি তারা তারাই ১৫ ই আগস্টের ঘটনা ঘটিয়েছিলেন। আজও যারা রাজনৈতিকভাবে শেখ হাসিনার সাথে ডিল করতে ব্যর্থ হচ্ছেন তারা ষড়যন্ত্র করছেন। যারা দেশের বিরুদ্ধে, অর্থনীতির বিরুদ্ধে, ধর্মনিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন তাদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের আরও সোচ্চার হওয়া দরকার।

সিলেট জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (বিএফইউজে) মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুক উদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান, মহানগর আওয়ামী লীগ। এম কাজী এমদাদুল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাকির হোসেন, সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকবাল সিদ্দিকী, সিনিয়র সাংবাদিক তাপস দাশ পুরকায়স্থ প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেছেন সিলেট তথ্য অফিসের উপ-পরিচালক জুলিয়া জেসমিন মিলি।

চামির মাহমুদ / আরএআর / এমকেএইচ