সিরাজগঞ্জে কোরবানির পশু নিয়ে দুশ্চিন্তায় খামারিরা

jagonews24

Yearদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিবছরের মতো সিরাজগঞ্জের ৯ টি উপজেলায় কয়েক হাজার গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানিয়েছে, ত্যাগের দাবি পূরণ করা হলেও উদ্বৃত্ত হবে।

তবে মহামারী করোনভাইরাস প্রভাবের কারণে জেলার কৃষকরা গবাদি পশুর দামের পাশাপাশি গরুর সঠিক মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা onণে উত্থিত গরু বিক্রি করার চেষ্টা করছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি মেটাতে কৃষকরা প্রণোদনা দাবি করেছেন।

কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, খামার থেকে গরু বাজারে নিয়ে আসা খুব কঠিন। গরমে খামারে গ্রীষ্মকালে পাখার নীচে থাকে। বাজারে আনার পরে গরু চঞ্চল হয়ে যায়। বাজারে ব্যবসায়ীদের খুব কম অ্যানাগোনা রয়েছে এবং তাদের হ্যাকডাক নেই। দাম অনুযায়ী ক্রেতা না থাকায় গবাদি পশু বিক্রি হচ্ছে না। ফলস্বরূপ, ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। সেই সাথে গরুদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কোরবানির বাজারের জন্য ৯০,০০০ গরু, ৩৫,০০০ ছাগল, ১০,০০০ ভেড়া এবং ৯,০০০ অন্যান্য প্রস্তুত রয়েছে। ত্যাগের চাহিদা পূরণ হলেও উদ্বৃত্ত হবে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়া গ্রামের একটি দুগ্ধ খামারের মালিক বোরহান উদ্দিন জানান, খামারে বিভিন্ন জাতের প্রায় শতাধিক গরু রয়েছে। এই গরুগুলিকে কাঁচা ঘাস, খড়, খাইল, ভাঙা ভুট্টা, গমের তুষ এবং ধানের কুঁচিসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক খাবার খাওয়ানো হচ্ছে। তবে গত বছর আমার খামারে গরুর চাহিদা ছিল বেশ। তবে একদিকে করোনার মহামারী এসে গেছে, অন্যদিকে চোরাচালানের কারণে কৃষকরা তাদের গবাদি পশু হারানোর সম্ভাবনা বেশি রয়েছে।

সদর উপজেলার রতনকান্দি হাটের ইজারাদার ইয়াকুব আলী জানান, স্বাস্থ্য বিধি মেনে মানুষ হাটে আসছেন। একই সঙ্গে Dhakaাকা-চট্টগ্রাম, সিলেট ও ​​রংপুর থেকে ব্যবসায়ীরা আসতে শুরু করেছেন। তবে কৃষক ও বিক্রেতারা কম বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন।

কামারখন্দের রায়দৌলতপুর গ্রামের রাকিব শেখ বলেন, “প্রতি বছর আমরা কোরবানির অনেক আগে খুলনা, Dhakaাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গরু বিক্রি করি। যদিও আমি এই বছর 10-15 গরু বিক্রির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, আমি বাকি 10 টি গরু কোথায় বিক্রি করব তা নিয়ে আমি চরম অনিশ্চয়তায় রয়েছি।

উলপাপাড়ার বড় পাঙ্গাসির এক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সজীব আহমেদ বলেছিলেন, “প্রতিবছর আমরা নিকটস্থ বোয়ালিয়া, জনতা, বাহার ও গ্যাসলাইন বাজারে যাই এবং সরাসরি গবাদি পশু বিক্রি করি। তবে এই বছর, করোনার কারণে, আমি জানি না গবাদি পশুর হাটটি এমন বসবে বা ক্রেতারা জড়ো হবে কিনা। শেষ পর্যন্ত বিক্রি হবে কিনা তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

jagonews24

শাহজাদপুর উপজেলার কাইজুরী ইউনিয়নের কৃষক গোলজার হোসেন বলেন, আমি প্রায় ১ 16 লক্ষ টাকা ব্যয়ে আমার খামারে ছয়টি ষাঁড় প্রস্তুত করেছি। করোনায় এই গরুর জন্য কোথায় বিক্রি করতে হবে বা ক্রেতা পেতে হবে তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। প্রতিদিন গরুটির জন্য আড়াইশ থেকে ৩০০ টাকা খরচ হয়।

কৃষক বেলাল হোসেন বলেন, প্রতিবেশীদের কাছ থেকে bণ নিয়ে তিনটি ষাঁড় প্রস্তুত করছি। এগুলি বিক্রি করে আমি সঠিক দাম পাব কিনা তা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো। আখতারুজ্জামান ভূঁইয়া বলেছিলেন, “প্রতি বছর আমরা কৃষকদের হাত ও কলম দিয়ে প্রশিক্ষণ দিই, এবার কোরবানির আগে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।” প্রায় আড়াই লাখ প্রাণী প্রস্তুত করা হয়েছে। করোনার বিষয়ে কৃষক বা বিক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগগুলি যৌক্তিক। ক্রেতা ঠিক নেই
যদি পাওয়া যায় তবে তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হবে। তারপরেও স্বাস্থ্য বিধি মেনে জেলার বিভিন্ন জায়গায় গরু-ছাগল বাজার পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতর ও প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতা তৈরি করা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো। ফারুক আহমেদ বলেছিলেন, “করোনায় কোরবানির আগে ক্রেতারা ও বিক্রেতারা পশুর হাটে স্বাস্থ্যকরনের নিয়মকে কতটা অনুসরণ করবেন তা নিয়ে আমরা খুব উদ্বিগ্ন।” এজন্য সবাইকে অনলাইনে গরু বিক্রি করতে উত্সাহিত করা হচ্ছে।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু / এমএসএইচ