সিলেটে গণধর্ষণ, সর্বশেষ আসামি তারেকও পাঁচ দিনের রিমান্ডে

jagonews24

সিলেট মুরারিচাঁদ কলেজ (এমসি কলেজ) ছাত্রাবাসে তার গৃহবধূকে গণধর্ষণ করার মামলায় তারেকুল ইসলাম তারেককে (২৮) পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে পুলিশ।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণধর্ষণ মামলার আসামি আসামি ছাত্রলীগ কর্মী তারেককে সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতের বিচারক মোঃ পুলিশ কঠোর নিরাপত্তা দিয়েছিলেন পুলিশ আবুল কাশেমকে আদালতে হাজির করে।

এ সময় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরান থানার ওসি ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন।

রিমান্ডের আবেদনের শুনানি শেষে আদালতের বিচারক তারেককে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেন। এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সুনামগঞ্জের দিরাই থেকে র‌্যাব -৯ তারেকুল ইসলাম তারেককে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার এড়াতে তারেক তার পুরো দাড়ি এবং চুল সরিয়ে নিজেকে ছদ্মবেশে ফেলেছে।

এদিকে, মামলার আসামি সহ আটজন আসামিকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। গত সোমবার, মঙ্গলবার ও আজ পুলিশ বিভিন্ন সময় আসামিদের আদালতে হাজির করে তাদের রিমান্ডে নিয়েছে।

তবে রিমান্ড শুনানির সময় কোনও আইনজীবী আসামির পক্ষে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তবে শুনানিতে রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্বকারী বিপুল সংখ্যক আইনজীবী অংশ নিয়েছিলেন। এদিকে, তারেককে আদালতে আনা হলে উত্সাহী জনতা তাকে দেখে এবং তাদের ঘৃণা প্রকাশ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

রাজ্যের পক্ষে শুনানিতে অংশ নিতে আদালতের অতিরিক্ত পিপি। মাহফুজুর রহমান জানান, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা তারেককে আদালতে হাজির করে 7 দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তবে এ সময় তাঁর পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় সিলেট রেঞ্জ পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া আট আসামির মধ্যে সাতজনকে এবং পাঁচ আসামি সহ সকল অভিযুক্তকে র‌্যাব -৯ রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এর আগে সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

ঘটনাচক্রে, ২৫ সেপ্টেম্বর শুক্রবার রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সাথে বেড়াতে যাওয়ার সময় এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়েছিল। রাত সাড়ে ৮ টার দিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ওই গৃহবধুকে জোর করে তার স্বামী থেকে দূরে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করেছে। তার ছাত্রাবাসের সামনে একটি প্রাইভেট গাড়িতে। এ সময় কলেজের সামনে থেকে দু’জন তার স্বামীকে আটক করে।

নিহতের স্বামী শাহপরান থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতা ও কর্মীসহ তিনজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আসামি হয়েছেন। অভিযুক্ত ছাত্রলীগের কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের প্রাক্তন যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক রঞ্জিত সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

রবিবার বিকেলে ভুক্তভোগী সিলেট মহানগর তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নীলারের কাছে সাক্ষ্য দেন। এ সময় তিনি ঘটনার বিশদ বিবরণ দিয়েছিলেন। আদালত ওই যুবতী গৃহবধূর জবানবন্দি রেকর্ড করে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

চামির মাহমুদ / এমএএস / জেআইএম

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]