১ মণ পেয়ারার দাম ৪শ টাকা, হতাশ চাষিরা

jagonews24

প্রচলিত কৃষিকাজ ছাড়াও ঝালকাঠি পেয়ারা চাষের জন্য দেশ-বিদেশে আলাদা খ্যাতি অর্জন করেছে। কয়েক দশক ধরে পেয়ারা সম্ভাব্য খাত হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঝালকাঠির উন্নয়নে পেয়ারা হওয়ার সম্ভাবনাও সরকার লক্ষ্য করেছে। বাংলার বিখ্যাত আপেল জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের তালিকায় স্থান পেয়েছে। জেলায় পেয়ারা চাষ বাড়ানোর জন্য এবং উত্পাদিত পেয়ারা দেশে ও বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

‘পেয়ারা ও শীতলপাটি, ঝালকাঠি’ স্লোগানদাতায় পেয়ারা উৎপাদন ও বিক্রয় দশ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকার। এই লক্ষ্য অর্জনে পেয়ারা জাত সংরক্ষণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত কৃষিজাত ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য কৃষকদের প্রশিক্ষণ, নতুন উদ্যান তৈরি, পেয়ারা সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এখানকার গুয়ারা শুধুমাত্র ফল হিসাবেই নয়, জ্যাম এবং জেলিসহ বিকল্প পণ্য হিসাবেও বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয়দের মতে, ঝালকাঠি পেয়ারার জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা, নীতিমালা এবং উদ্যোগের প্রয়োজন। কারোনার কারণে এই বছর পাইকার আসছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেরিতে ফলন এবং তুলনামূলকভাবে কম ফলন নিয়ে কৃষকরা উদ্বিগ্ন। দেশি-বিদেশি পর্যটকরা আসছেন না। তাই এ বছর দাম অনেক কম। পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৩-৪ শ ’টাকায়। পেয়ারা চাষীরা দাম নিয়ে হতাশ।

সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গবরামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়ন ঘিরে পেয়ারা চাষের বিকাশ হয়েছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি মৌসুমে প্রায় 50৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। প্রতি হেক্টর উত্পাদন প্রায় 10 হাজার কেজি। যেমন, ঝালকাঠিতে এক মৌসুমে প্রায় 65 লক্ষ কেজি পেয়ারা উত্পাদিত হয়। স্বরুপকাঠি, মুকুন্দপুরী ও চিনা জাতের পেয়ারা জেলায় জমি চাষ হয়।

এ সময়, জেলার প্রায় ৩০ টি গ্রামের পেয়ারা বাগানে কৃষকদের ব্যস্ত সময় কাটাতে দেখা গেছে। কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভিমরুলি ভাসমান হাটের নাম পেয়ারা চাষের সাথে জড়িত। কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার সাথে সাথে ট্রলারগুলিতে পাইকারদের সাথে দর কষাকষি করে পাকা পেয়ারা বিক্রি করেন।

jagonews24

ভিমরুলী হাটের পেয়ারা বিক্রেতা গৌতম মিস্ত্রি বলেছিলেন, “ভাসমান পেয়ারা বাজারটি তখন ভীমরুলি খালে হিমশীতল ছিল। এই বাজারটি ৫০-60০ বছর আগে থেকে প্রতিটি মৌসুমেই বসে ছিল। বাজারটি দেশে বিখ্যাত হয়েছে বিদেশে বিক্রয় বেড়েছে। ঝালকাঠি পেয়ারা ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। সবে নতুন নতুন পেয়ারা বাজারে আসতে শুরু করেছে। বাণিজ্য আরও দেড় মাস অব্যাহত থাকবে। যদিও শুরুতে বিক্রি কম ছিল, প্রায় ২ কোটি টাকার গুয়ারা বিক্রি হয়েছিল এক মরসুমে

অনুপ হালদার ভিমরুলী হাট থেকে ২ কিলোমিটার দূরে একটি ইকো রিসর্ট ব্যবসা পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ভিমরুলী হাটের আশেপাশে রিসর্ট এবং পর্যটন কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে। এটি প্রায়শই পর্যটকদের ভিড়ে বাজারের কার্যক্রম ব্যাহত করে। ট্যুরিস্ট ট্রলারদের ভিড় গুয়ারা দিয়ে বোঝাই নৌকা পেতে সমস্যা হয়। পর্যটকরা পেয়ারা বাগানে প্রবেশ করেন। ফল। এটি বাগানের গাছ এবং ফল ধ্বংস করে। তবে আমরা পেয়ারা বাগান এবং বাজারে পর্যটকদের প্রবাহ থামাতে চাই না। সরকারের পক্ষে এ বিষয়ে কার্যকর পরিকল্পনা ও উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

কীর্তিপাশা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুস শুক্কুর মোল্লা বলেছেন, ‘প্রতিদিন দেশি-বিদেশি পর্যটকরা এখানে আসেন। তবে তাদের জন্য কোনও অবকাঠামোগত সুবিধা নেই। স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে কয়েকটি পার্ক স্থাপন করা হয়েছে। কিছু রিসর্ট আছে। তবে এগুলি পর্যাপ্ত সুবিধা দিতে সক্ষম হয় না।

jagonews24

ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো। ফজলুল হক বলেছিলেন, “প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে জেলার পেয়ারা চাষীদের কৃষি বিভাগ সব ধরণের সহায়তা দিচ্ছে।”

জেলা প্রশাসক মো। জোহর আলী বলেছিলেন, ‘পেয়ারা চাষীদের উন্নয়নের জন্য যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার; এটি নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। পেয়ারা জেলার ব্র্যান্ড হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কৃষকদের অনলাইনে পণ্য বিক্রয় করার সুবিধার্থে একটি ফ্রি ওয়াইফাই অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে।

মোঃ আতিকুর রহমান / এসইউ / এএ / এমকেএইচ