২১ বছরের রেকর্ড ছাড়াল করতোয়ার পানি

jagonews24

বন্যার পঞ্চম ধাপে, গাইবান্ধার ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘাট এবং করতোয়া নদীর পানি বিপদ অঞ্চলে প্রবাহিত হচ্ছে। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাখালী পয়েন্টে করতোয়া পানি বিপদসীমা থেকে ১১৩ সেমি উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই জলের প্রবাহ পরিমাপ করা হয়েছিল। যা 21 বছর আগে রেকর্ডটি ভেঙেছে। 1999 সালে, করতোয়ার জলের স্তরটি 104 সেন্টিমিটার রেকর্ড করা হয়েছিল। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রণ কক্ষে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। পানি বাড়ার কারণে গোবিন্দগঞ্জ-ঘোড়াঘাট-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ডুবে গেছে।

এদিকে, ঘাঘাট নদীর পানি গাইবান্ধা সিটি পয়েন্টে বিপদসীমার ২২ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার এক সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তিস্তা ও যমুনাসহ সব নদীর পানির স্তর বাড়তে থাকে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা। টার দিকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বোগুলাগাড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচটি নতুন গ্রাম জলে ডুবে গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে সাঘাটা উপজেলার আরও পাঁচটি গ্রাম জলে ডুবে গেছে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো। মোখলেছুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে গাইবান্ধার করতোয়া-কাটাখালী-বাংলা নদীর তীরে পলাশবাড়ী উপজেলার ১৫ টি গ্রাম, গোবিন্দগঞ্জের ২৫ টি এবং সাঘাটার ২০ টি গ্রামসহ মোট 60০ টি গ্রাম ডুবে গেছে।

অন্যদিকে ব্রহ্মপুত্র, তিস্তা ও যমুনা নদীর জলের উত্থানের ফলে জেলার সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি, গাইবান্ধা সদর ও সাঘাটা উপজেলার চর অঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং কয়েকশ বিঘা আমন ধান নিমজ্জিত হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা আবদুল মালেক জানান, বন্যার কারণে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা ঘোরঘাট উপজেলার সাথে দিনাজপুর জেলার সাথে সংযুক্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক ডুবে গেছে। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

jagonews24

পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ি ইউনিয়নের বাসিন্দা কাদের আলী বলেন, বন্যার পানির ক্রমবর্ধমান কারণে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে আমাদের বাচ্চাদের সাথে অমানবিক জীবনযাপন করছি।

সাঘাটা উপজেলার হেলঞ্চা গ্রামের চান্দু মিয়া বলেন, এবার আমার ফসলের পাঁচ বিঘা বন্যায় ডুবে গেছে। এখন আমি নিঃস্ব। ভবিষ্যতে কী খেতে হবে তাও জানি না।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিতলা গ্রামের আবদুল মালেক জানান, উপজেলার বোগুলাগাড়িতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে প্রায় পাঁচটি গ্রাম নতুনভাবে প্লাবিত হয়েছে। আমন ধান, সবজি সহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো। মোখলেছুর রহমান জানান, করতোয়া নদীর পানি কাটাখালি পয়েন্টে বিপদসীমা থেকে ১১৩ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে, গাইবান্ধা নগর পয়েন্টে ঘাঘাট নদীর পানি বিপদসীমা থেকে ২২ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি ১ সেন্টিমিটার প্রবাহিত হচ্ছে। ফুলছড়ি পয়েন্টে বিপদসীমার উপরে। তিস্তা ও যমুনা সহ সমস্ত নদীর জলের স্তর বাড়তে থাকে। যে কোনও সময় বিপদসীমার অতিক্রম করতে পারে।

jagonews24

গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো। আবদুল মতিন বলেন, বন্যার বিষয়ে হতাশার কিছু নেই। সরকার বন্যার্তদের পক্ষে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

গাইবান্ধা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, একটানা বৃষ্টিপাত এবং নদীর জলের কারণে জেলার সাতটি উপজেলার ১,6 .০ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে 25 হেক্টর জমির সবজি পচে গেছে।

জাহিদ খন্দকার / আরএআর / এমকেএইচ

করোনার ভাইরাস আমাদের জীবন বদলে দিয়েছে। আনন্দ, বেদনা, সংকট, উদ্বেগ নিয়ে সময় কাটায়। আপনি কিভাবে আপনার সময় কাটাচ্ছেন? জাগো নিউজে লিখতে পারেন। আজ পাঠান – [email protected]